টলিউড এখনও স্তব্ধ। জনপ্রিয় অভিনেতা ‘রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর (Rahul Arunoday Banerjee) আকস্মিক মৃ’ত্যু যেন অনেক অজানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঘটনাটির পর থেকেই একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসছে। কে কী বলছেন, আর কোথায় যেন মিলছে না ছবিটা। শ্যুটিং চলছিল কি না, তিনি একা জলে নেমেছিলেন কি না, নাকি দৃশ্য ধারণের সময়ই দুর্ঘ’টনা, এই প্রতিটি প্রশ্ন এখন তদন্তের কেন্দ্রে। ইউনিটের সদস্যদের আলাদা আলাদা বক্তব্য যেন পুরো ঘটনাকে আরও ধোঁয়াশার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
একদিকে পরিচালক দাবি করছেন, তখনও শ্যুটিং চলছিল এবং অল্প জলে দৃশ্য ধারণ হচ্ছিল। অন্যদিকে ইউনিট ম্যানেজারের কথায়, কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং সবাই প্রায় রওনা দেওয়ার প্রস্তুতিতে। প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় আবার জানিয়েছেন, চিত্রনাট্যে গভীর জলে নামার কোনও প্রয়োজনই ছিল না, বরং অভিনেতাকে সতর্ক করা হয়েছিল। এই তিনটি বক্তব্য পাশাপাশি রাখলে স্পষ্ট যে ঘটনার প্রকৃত চিত্র এখনও অধরা। ঠিক কী পরিস্থিতিতে তিনি জলে নামলেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার পর ঘটনাটি আরও গভীর হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণ বালি ও নোনা জল জমে ছিল, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে তিনি খুব অল্প সময় নয়, বরং দীর্ঘ সময় জলের নিচে ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টার কাছাকাছি! শরীরে ম’দের কোনও উপস্থিতি না থাকাও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এটি হঠাৎ কোনও ছোটখাটো দুর্ঘটনা নয়, বরং শ্বাসরোধ হয়ে মৃ’ত্যুর সম্ভাবনাই এখন জোরালো।
এই সমস্ত বাস্তব তথ্যের মাঝেই সামনে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর এবং শিহরণ জাগানো তথ্য! আজ থেকে প্রায় আট বছর আগে, ২০১৮ সালে আর্টিস্ট ফোরামের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল রাহুলের লেখা “বান্ধবীরা।” সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “মৃত্যুর পর নিজেকে বেশ রাজকীয় লাগছে আমার। এমনিতেই মৃত্যুটা বেমক্কা হয়েছে। পাড়ার দুর্গাপুজোর ভাসান ছিলো। শেষ সিঁড়িটা মিস্ করেছি। বিয়াল্লিশ তো যাবার বয়সও না। বেরিয়ে এলাম জল থেকে। শরীর তুলেছে অবশ্য অন্যরা। এখন ক্লাবঘরে রাখা।
বৌদি থম মেরে এক কোণে বোসে মাছে। সত্যিই কষ্ট পেয়েছে, জানি। দাদা এখন ব্যস্ত। ক্রিকেট সখতে বোসে মিস্ করবে। হঠাৎ কোরে পাড়ার সবাই এমন দড়ি কোরে দেখছে যেন আমি কোনো সেলিব্রিটি। অথচ হাসি কেউ নই। একসময় চুটিয়ে পার্টি করেছি। আঁকার হাত ভালো ছিলো, দেওয়াল লিখেছি। স্পোর্টস্ আর পাড়ার ইচিত্রানুষ্ঠানে অ্যানাউন্স করবার সুযোগ পেলেও ভালো রাগতো। ক্লাবের নিজের গাড়ি আছে। সেই গাড়িতেই যাবে। মাটুদা খুব কাঁদছে। ইস্ লোকটা সত্যিই ভালোবাসতো…”
আরও পড়ুনঃ ‘বাবিন’ আর ফিরবে না! ব্যারিকেড ভেঙে শেষ দেখা, পাড়ার ছেলের নি’থর দে’হ ঘিরে কান্নায় ভাসল বিজয়গড়! সহকর্মী ও প্রতিবেশীদের চোখের জলে বিদায় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে!
এই লেখাটির সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার অদ্ভুত মিল অনেককেই স্তম্ভিত করে দিয়েছে সবাইকে! সেখানে তিনি নিজেই যেন এক জলে ডুবে যাওয়ার মৃ’ত্যুর চিত্র এঁকেছিলেন, আর বাস্তবেও তাঁর মৃ’ত্যু ঘটল জলে ডুবে, তাও আবার মাত্র ৪২ বছর বয়সে! এই কাকতালীয় মিল সত্যিই গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। এমনটা কি নিছকই কল্পনা, নাকি জীবনের কোনও অদ্ভুত পূর্বাভাস? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, আর তার উত্তর হয়তো আর কোনওদিনই জানা যাবে না। আপনাদের কী মতামত, সত্যিই প্রকৃত শিল্পীরা মৃত্যুর আভাস আগে থেকেই পেয়ে যান?






“বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র সুন্দরী নায়িকা কৌশানি, মা দুর্গার থেকেও বেশি সুন্দরী!” বেনারসি শাড়ি, গা ভর্তি সোনার গয়নায় হবু বৌমা, প্রশংসায় খেই হারিয়ে মন্তব্য পিয়া সেনগুপ্তর! ছেলে বনি আবার ঘুরছেন আঁচল ধরে! ‘হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না’, ‘আপনার থেকে সুন্দরী কেউ হতে পারে?’ ‘এমন শাশুড়ি আমাকেও দিও ভগবান’ নেটপাড়ায় তুমুল হাসাহাসি!