টলিউডে যেন হঠাৎ করেই নেমে এসেছে এক অদ্ভুত শোকের আবহ। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের অকাল মৃত্যুর পর শুধু শোকপ্রকাশেই থেমে থাকেননি শিল্পীরা, বরং সামনে আনতে শুরু করেছেন তাঁদের নিজের জীবনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাগুলোও। এতদিন ক্যামেরার আড়ালে চাপা পড়ে থাকা সেই দুর্ঘটনার গল্পগুলোই এখন উঠে আসছে প্রকাশ্যে। সাধারণ মানুষও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন, শুটিং ফ্লোর কি সত্যিই নিরাপদ?
এই পরিস্থিতিতেই মুখ খুললেন অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্য এবং অভিনেতা রুবেল দাস। তাঁদের কথায় উঠে এল শুটিং সেটের বাস্তবতা, ঝুঁকি আর নিরাপত্তাহীনতার ছবি। রুবেল দাস জানালেন, শুটিং করতে গিয়েই তিনি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি অ্যাকশন দৃশ্যে বাস থেকে লাফ দেওয়ার সময় পা হড়কে পড়ে গিয়ে তাঁর দু’টি গোড়ালিই ভেঙে যায়। ঘটনাটি এতটাই গুরুতর ছিল যে এখনও তার স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে অসুবিধে হয়। ২০২৩ সালে ঘটে এই ঘটনাটি, সেই সময়ও একটি শট দিতে গিয়ে তাঁর পায়ে মারাত্মক চোট লাগে।
চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দীর্ঘদিন বিশ্রামে থাকতে হয়েছিল। এমনকি দৈনন্দিন কাজকর্ম, যেমন বাথরুমে যাওয়া, সেটাও তখন তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই ঘটনার পাশাপাশি নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান শ্বেতা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। অনেক সময়ই শিল্পীদের নিজেদের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে নানা শারীরিক সমস্যার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।
তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কিছু সহযোগিতা তিনি পেয়েছেন। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, সেট কি যথেষ্ট নিরাপদ? শ্বেতার কথায় স্পষ্ট, দুর্ঘটনা সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব না হলেও, তা যাতে মারাত্মক না হয়, তার জন্য প্রয়োজন সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে দূরবর্তী বা নির্জন জায়গায় শুটিং হলে সেখানে যথাযথ সেফটি প্রোটোকল থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, যদি সেই সুরক্ষা নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে এমন জায়গায় শুটিং করা উচিত নয়।
আরও পড়ুনঃ খুঁজে দেখা হয়েছে অ’ন্তর্বাস, স্যানি’টারি ন্যাপকিন! নাকা চেকিংয়ের নামে হেন’স্থার অভিযোগ শ্রীময়ী চট্টোরাজের! বিদায়ী বিধায়ক কাঞ্চন পত্নীর সঙ্গে পুলিশি নির্যা’তন নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রিকেই এই বিষয়ে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে টলিউডে এই বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, ক্যামেরার সামনে বিনোদন দেওয়ার জন্য জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যু যেন সেই প্রশ্নটাই আরও জোরালো করে তুলেছে, শিল্পীদের নিরাপত্তা কি সত্যিই গুরুত্ব পাচ্ছে?






