বছরের শুরুতেই অসুস্থ শ্বেতা! শরীরের ক্লান্তি উপেক্ষা করে, স্বামী রুবেলেরর প্রিয় খাবার করলেন রান্না! পর্দায় নজর কেড়েছেন, সংসারী শ্বেতাও জয় করছে মন! অভিনেত্রীর সংসারের প্রতি দায়িত্ববোধে প্রশংসায় ভাসছে নেটপাড়া!

ছোটপর্দার বাইরেও, ‘শ্বেতা ভট্টাচার্য’ (Sweta Bhattacharya) এবং ‘রুবেল দাস’-এর (Rubel Das) সম্পর্কটা যেন নিখুঁত। জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তারা একে অপরকে যত্ন ও ভালোবাসা দেখাতে কখনও পিছপা হন না। অনেকে ভাবতে পারেন তারকারা শুধু আলো-ঝলমলে জীবনে ব্যস্ত থাকেন, কিন্তু রুবেল-শ্বেতার সম্পর্ক ঠিক তার বিপরীত একেবারে চাকচিক্যহীন, সাদামাটা। সমাজ মাধ্যমে তাঁরা মাঝে মাঝে নিজেদের সেই সাধারণ জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত ভাগ করেন, যা দেখে অনুরাগীরা সহজেই তাদের সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে পারেন।

এই মুহূর্তে কিছুটা বিরতিতে রয়েছেন শ্বেতা, গত বছর মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়েছে তাঁর ধারাবাহিক। ঠিক তারপর থেকেই অত্যন্ত সংসারী হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী! স্বামীর জন্য রোজ নিত্যনতুন রান্না করে সেই ভিডিও সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। অন্যদিকে, রুবেল ধারাবাহিক নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত। খুব একটা সময় দিতে পারেন না বাড়িতে, তবে সেই নিয়ে বিন্দুমাত্র অভিযোগ নেই শ্বেতার। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই নতুন বছরের উদযাপনে মেতে ছিলেন দম্পতি।

সমাজ মাধ্যমে বেশ কিছু ছবি ভাগ করে নিয়েছিলেন সেই উদযাপনের। সঙ্গে দেখা মিলেছিল আরো কিছু সহ অভিনেতার। কিন্তু ঠিক তারপর শ্বেতা কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পেট খারাপ এবং লাগাতার বমির কারণে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে, স্বামীর জন্য রান্না করতে কোনও আপস করেননি তিনি! স্বামী রুবেলের জন্য তিনি নিজে অসুস্থ শরীর নিয়ে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রান্না করেছেন। নিজের আরামের চিন্তা না করে, অন্যের ভালো থাকাকে এগিয়ে রেখেছেন। এই ছোট্ট উদাহরণটা শুধু ভালোবাসা নয়, বরং একটি দাম্পত্য জীবনের বাস্তব যত্নকেই তুলে ধরেছে।

এদিন শ্বেতার হাতে তৈরি খাবার ডাল ভর্তা, ডিমের পোচ এবং রুবেলের প্রিয় কষা মাংসের স্বাদ যেন ছিল আরও বিশেষ। শীতের দুপুরে যখন রুবেল সেই খাবার খেতে বসেন, মুখে তৃপ্তি আর সন্তুষ্টির হাসি ছিল স্পষ্ট। সেই আনন্দই ধরা পড়েছে তাঁদের সমাজ মাধ্যমের সদ্য প্রকাশিত ভিডিওতে। বলতেই হয়, এই মুহূর্তগুলোই প্রমাণ করে যে সম্পর্ক বড় কোনও নাটকীয়তার প্রয়োজন নেই বরং দৈনন্দিন যত্নটুকুই যথেষ্ট। একে অপরের জন্যে সামান্য ভালোবাসার ত্যাগই কখনও কখনও সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ আনন্দের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরা আর হল না! ম’র্মান্তিক দুর্ঘটনায় অকালপ্র’য়াণ জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীর! রাতের অন্ধকারেই হারিয়ে গেল সুরেলা কন্ঠ!

উল্লেখ্য, তাদের গল্পে বিশেষ করে নজর কেড়ে নেওয়া দিকটি হলো শৈশবের বন্ধুত্ব থেকে আজকের দাম্পত্য। জীবনের প্রথম পর্যায়ে, নাচের ক্লাসে পরিচয় এবং বছরের পর বছর দূরত্বের পর ফের দেখা! শ্বেতা-রুবেলের সম্পর্ক শুধু তারকা দম্পতির গল্প নয়। অত্যন্ত বাস্তব সম্পর্কের, যেটা প্রমাণ করেছে যে যত ব্যস্ততা থাকুক না কেন, একে অপরের জন্য সময় এবং যত্ন দেওয়া সম্ভব। অসুস্থতার মধ্যেও রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে স্বামীর প্রিয় খাবার বানানো শ্বেতার সেই দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসা তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় এবং উষ্ণ করেছে।

You cannot copy content of this page