টলিউডে পরিচালক–অভিনেতার সম্পর্ক নিয়ে নানা গল্প শোনা যায়। কখনও তা সৃষ্টির, কখনও মতভেদের। বিশেষ করে যখন নাম উঠে আসে ঋতুপর্ণ ঘোষ–এর, তখন প্রত্যাশা থাকে অন্য মাত্রায়। তাঁর ছবিতে কাজ করা মানেই যেন আলাদা সম্মান, আলাদা পরিচিতি। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এমন পরিচালকের ডাকে ‘না’ বলতে পারেন কে?
কিন্তু এই ‘না’–টাই নাকি বলেছিলেন বাংলা ছবির জনপ্রিয় নায়ক তাপস পাল। ঘটনাটা বহু বছরের পুরনো, তবে সম্প্রতি তা আবার সামনে এসেছে তাঁর স্ত্রী নন্দিনী পাল–এর কথায়। তিনি জানিয়েছেন, একসময় একটি ছবির প্রসঙ্গে দু’জনের মধ্যে কথা হয়েছিল। সবকিছু ঠিকঠাক এগোচ্ছিল বলেই জানা যায়। কিন্তু তারপর আচমকাই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা, যা বদলে দেয় সমীকরণ।
নন্দিনীর কথায়, এক রাতে প্রায় দু’টো নাগাদ ফোন করেন ঋতুপর্ণ। কথার সুর ছিল হালকা—“একটু আয় না, সবাই মিলে মজা করবো।” সেই আমন্ত্রণই নাকি ভাল লাগেনি তাপসের। তাঁর মনে হয়েছিল, রাতদুপুরে এইভাবে ডাকা পেশাদার সম্পর্কের সঙ্গে খাপ খায় না। আর সেখান থেকেই চড়ে যায় মেজাজ। তিনি নাকি সোজাসুজি জানিয়ে দেন, এভাবে ডাকলে তিনি যাবেন না, এমনকি ছবিটিও করবেন না।
এই প্রসঙ্গে নন্দিনী আরও বলেন, তাপস ছিলেন ভীষণ স্পষ্টবাদী এবং ইমপালসিভ স্বভাবের। অনেক সময় ভাবার আগেই কথা বলে ফেলতেন। তিনি স্বামীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, কাজটা করে বেরিয়ে আসাই বুদ্ধিমানের। কিন্তু তাপস নিজের অবস্থান থেকে সরেননি। তাঁর যুক্তি ছিল, ব্যক্তিগত অস্বস্তি থাকলে সেই কাজ করা ঠিক নয়। যদিও নন্দিনীর বিশ্বাস, ঋতুপর্ণ হয়তো ভাল মনেই ডেকেছিলেন, তবু বিষয়টি তাপসের কাছে অস্বস্তিকর লেগেছিল।
আরও পড়ুনঃ “মা’র খেতে খেতে যতক্ষণ না র’ক্ত বেরিয়ে যেত…দর্শকের হাততালিও পাই না, কু’ত্তার কপাল!” অ্যা’কশন থেকে সংলাপ, সব জায়গায় বঞ্চনার শিকার? নায়ককেন্দ্রিক ছবিতে খলনায়কের না-পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ সুমিত গাঙ্গোপাধ্যায়ের!
এই ঘটনায় কোনও প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে টলিউডের অন্দরমহলে এই গল্প আজও আলোচনায়। একদিকে সংবেদনশীল, শিল্পমনস্ক পরিচালক, অন্যদিকে আবেগপ্রবণ সুপারস্টার—দু’জনের ব্যক্তিত্বের সংঘাতই হয়তো এই দূরত্বের কারণ। তবু প্রশ্ন থেকেই যায়, সেই রাতের সিদ্ধান্ত বদলে দিলে কি অন্যরকম ইতিহাস লেখা যেত? উত্তর হয়তো আর জানা যাবে না, কিন্তু গল্পটা রয়ে গেছে বাংলা সিনেমার স্মৃতির অ্যালবামে।






