পর্দার গল্প যেন বাস্তব ছুঁল! ১১ বছর পর এক ফ্রেমে ‘মা’-এর ঝিলিক ও মা-বাবা, স্মৃতির পাতায় ফিরে গেলন দর্শকরা! ২৫তম জন্মদিনে পুনর্মিলন, আবেগঘন ছবি ভাগ করে কী লিখলেন অভিনেত্রী তিথি বসু?

একটা সময় ছিল, সন্ধ্যে নামলেই বাংলার ঘরে ঘরে টিভির সামনে বসে পড়তেন মানুষ। কারণ ছোট্ট এক মেয়ের গল্প তখন পর্দা জুড়ে। স্টার জলসার ‘মা’ (Maa) ধারাবাহিকের ঝিলিক, যাকে দর্শক সেই নামেই চিনতেন খুব অল্প বয়সেই যেন সবার পরিবারের একজন হয়ে উঠেছিল। সেই শিশুশিল্পী ‘তিথি বসু’র (Tithi Basu) চোখের ভাষা, অভিমান, হাসি মিলিয়ে আলাদা করে কিছু বলার দরকার পড়ত না। ধারাবাহিক শেষ হয়ে গিয়েছে বহু বছর আগে, তবু ঝিলিক নামটা আজও অনেকের স্মৃতিতে আলাদা জায়গা করে আছে।

এই গল্পের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে আছে মূলত সেই হারিয়ে যাওয়ার অধ্যায়টি নিয়েই। মাত্র এক বছরের শিশুর মায়ের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া, তারপর অন্য মানুষের কাছে বড় হয়ে ওঠার এই কাহিনি দর্শকের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল খুব সহজেই। পর্দার ঝিলিকের জীবন ছিল চুড়ান্ত ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে তৈরি এক গল্প, যেখানে সম্পর্কের টানটাই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই হয়তো এত বছর পরেও এই ধারাবাহিকের কথা উঠলে চোখে জল চলে আসে অনেকের।

সময় অবশ্য থেমে থাকে না। ছোট্ট ঝিলিক আজ প্রাপ্তবয়স্ক। নিজের মতো করে জীবন গুছিয়ে নিচ্ছে সে, অভিনয় এবং ভ্লগিং দিয়ে। গত সোমবার তিথি বসুর ২৫তম জন্মদিনে হঠাৎই যেন পর্দার গল্পটা বাস্তবের সঙ্গে মিলেমিশে গেল! অপ্রত্যাশিত ভাবে একসঙ্গে দেখা গেল ‘মা’ ধারাবাহিকের গুরুত্বপূর্ণ মুখদের। তিথি, পর্দার মা মহুয়া হালদার এবং বাবা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, তিনজন এক ফ্রেমে ধরা পড়লেন আর যা দেখে নস্টালজিয়ায় ভেসেছেন বহু দর্শক!

এই মিলনটা হয়তো ছিল খুব স্বাভাবিক, খুব সাধারণ কিন্তু তার মধ্যেই ছিল আলাদা একটা উষ্ণতা। পর্দায় যে সম্পর্কটা কল্পনার ছিল, বাস্তবে এত বছর পর সেটার ছোঁয়া পেয়ে আপ্লুত হয়েছেন তিথি নিজেও! সমাজ মাধ্যমে ছবি ভাগ করে নিয়ে তিনি যে কথাটা লিখেছেন, সেটার মধ্যেই ধরা পড়েছে এই সম্পর্কের গভীরতা। অভিনয়ের বাইরে থেকেও কিছু সম্পর্ক যে থেকে যায় ও সময়ের সঙ্গে আরও পরিণত হয়, এই মুহূর্তটা যেন তারই প্রমাণ।

আরও পড়ুনঃ “ও বাবা হতে তৈরি নয়”—ভালোবাসা আর বিয়ের এতগুলো বছর পেরিয়েও কেন সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় সোহিনী–সপ্তর্ষি? ব্যক্তিগত জীবনের কথা জানালেন তারকা দম্পতি!

এদিন তিনজনের ছবি দিয়ে তিথি লেখেন, “২৫ বছর পর মা-বাবার সাথে দেখা হলো।” ‘মা’ ধারাবাহিক হয়তো বহু আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু তার চরিত্রগুলো দর্শকের মন থেকে কখনও হারায়নি। ঝিলিক আজ আর সেই ছোট্ট মেয়ে নেই, তবু তার গল্প আর স্মৃতি আজও বেঁচে আছে। পর্দা আর বাস্তবের মাঝের এই অদ্ভুত মিলটাই হয়তো মানুষের মনে এতটা জায়গা করে নিয়েছে। খুব বেশি আবেগ নয়, খুব বড় কোনও আয়োজনও নয়। তবু এই পুনর্মিলন মনে করিয়ে দিয়েছে, কিছু গল্প সময় পেরিয়েও আলাদা করে আলো ছড়ায়।

You cannot copy content of this page