টলিউডে শো’কের ছায়া! বাড়ি থেকে উদ্ধার জনপ্রিয় চিত্রগ্রাহক ভিকির ঝু’লন্ত দেহ, স্তব্ধ সহকর্মীরা, শোকস্তব্ধ পরিচালক রাজা চন্দ, প্রেমেন্দুবিকাশ চাকী

টলিউডে ফের নেমে এল শোকের ছায়া। মাত্র ৪০ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় চিত্রগ্রাহক সৌম্যদীপ্ত গুইন, যাকে সবাই ভিকি নামে চিনতেন। বুধবার তাঁর কসবার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ঝুলন্ত দেহ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পরিচালক রাজা চন্দ। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ তখনই দেহ নামানোর কাজ করছিল। আকস্মিক এই মৃত্যুতে হতবাক ইন্ডাস্ট্রি। সবার মুখে একই প্রশ্ন – এত প্রাণবন্ত ভিকি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন?

ভিকির মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন পরিচালক প্রেমেন্দুবিকাশ চাকী। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করেছেন দু’জনে। তিনি জানিয়েছেন, ইদানীং ভিকি কাজ নিয়ে বেশ হতাশ ছিলেন। হয়তো আশানুরূপ সুযোগ না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বন্ধুরা তাঁকে বলেছিলেন, তিনি নিজেকে একটু গুটিয়ে নিয়েছিলেন। এমনকি কিছুদিন আগেই প্রেমেন্দুবিকাশ তাঁকে ছোটপর্দায় কাজ শুরু করার পরামর্শও দিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগে এমন ঘটনা! প্রিয় সহকারীকে হারিয়ে তিনি বাকরুদ্ধ।

চিত্রগ্রাহক গিল্ডের সম্পাদক স্বপন মজুমদার জানিয়েছেন, দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং বিকেলে এনআরএস থেকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে শেষকৃত্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভিকির কলেজ স্ট্রিটই তাঁর আদি ঠিকানা। পরিবারই ঠিক করবে কোথায় শেষকৃত্য হবে। স্বপনের কথায়, টেলিসম্মান পুরস্কারে কাজ করার সময়ও ভিকির মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। তাই তাঁর মৃত্যু মেনে নেওয়া আরও কঠিন।

আরও পড়ুনঃ বাংলা ছবিতে ফের শোনা যাবে গজলের সুর! প্রথমবার প্লেব্যাক করছেন পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী পত্নী চন্দনা চক্রবর্তী

পরিচালক রাজা চন্দ ভিকির সঙ্গে প্রথম দিনের কথা মনে করে ভেঙে পড়েন। তাঁর ভাষায়, স্বাধীন চিত্রগ্রাহক হিসেবে ভিকির যাত্রা শুরু তাঁর ছবি দিয়েই। কাজের ক্ষেত্রে ভিকি সর্বদা ছিল “হ্যাঁ-ম্যান”। ক্লান্তি নেই, অভিযোগ নেই, শুধু কাজ আর হাসিমুখ। রাজা বলেন, “ও সবসময় এনার্জিতে ভরপুর থাকত। মনে হচ্ছে আমার ডান হাতটাই যেন ছিঁড়ে গেল।” কাজের প্রতি অতিরিক্ত সময় দিতে পারবেন বলেই কলেজ স্ট্রিটে নিজের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কসবার ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি।

প্রাণবন্ত, পরিশ্রমী আর লড়াই করে এগোনো এক মানুষের শেষ যাত্রা আজ টলিউডকে দাঁড় করাল গভীর বেদনার সামনে। পিছনে রইল তাঁর স্ত্রী আর ছোট্ট কন্যা। রইল অপূর্ণ স্বপ্ন আর অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন।

You cannot copy content of this page