‘ভালো বলে সবাই যাকে সমর্থন করছে, সে দরকার মিটলেই ছুঁড়ে ফেলে দেয় মানুষকে!’ ‘টাকা চাইলেই ফোন ধরে না, কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক দেয়নি আজও!’ দেবলীনাকে ঘিরে সহানুভূতির ঢেউয়ের মাঝেই ভিডিওগ্রাফারদের বিস্ফো’রক অভিযোগ! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, প্রশ্নের মুখে শিল্পীর ভাবমূর্তি!

গত এক সপ্তাহ জুড়ে, সমাজ মাধ্যমে সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’ (Debolina Nandy)। গত শনিবার রাতে, আচমকাই লাইভে এসে ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের তুলে ধরেন তিনি। সব সময় হাসি-খুশি থাকা এই শিল্পীর হঠাৎ মানসিক অবনতি অনেকেই ভাবিয়েছে। পরদিন জানা যায়, নিজেকে শেষ করে দিতে চেষ্টা করেছিলেন তিনি! নেপথ্যে কারণ হিসেবে উঠে আসে, স্বামী প্রবাহের উদাসীনতা এবং শ্বশুর বাড়িতে তার মাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমস্যা। সমাজ মাধ্যমে একটা বৃহৎ অংশ দেবলীনার পক্ষে দাঁড়িয়েছে, সবাই বলেছে মানুষ হিসেবে কতটা ভালো সে।

এই আলোচনায়, হঠাৎ করেই সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য! নীল এবং ঋভু নামের দুই ভিডিওগ্রাফার বন্ধু, সম্প্রতি দেবলীনাকে নিয়ে বিস্ফো’রক কিছু দাবি করেছেন সমাজ মাধ্যমে নিজেদের ভিডিওতে। এদিন তাঁরা বলেন, “আমরা আজকে এই ভিডিওটা বানাচ্ছি, তার একমাত্র কারণ হচ্ছে আপনাদের কাছে সহজে পৌঁছাবে। আজ থেকে দেড় বছর আগে যদি বানাতাম, হয়তো কেউ দেখত না বা ভাবত যে একজন শিল্পীকে ইচ্ছাকৃত ছোট করছি। তবে, আজ যে সবাই বলছে দেবলীনা নন্দী খুব ভালো মানুষ। সবার সঙ্গে দিদির মতো মেশে আর কাজের অভিজ্ঞতা সবার খুব ভালো, তবে আমাদের কিন্তু সেটা মনে হয় না!

আমরা পেশায় ভিডিওগ্রাফার এবং এডিটর। তাঁর সঙ্গে কিছু আর্টিস্টদের সমাজ মাধ্যমের দায়িত্বও সামলাই। সেই সূত্রেই ২০২১ সালে আমাদের দেবলীনার সঙ্গে পরিচয়। যেহেতু উনি জানত যে আমি ফেসবুক সামলাই, তাই আমাকে দায়িত্ব দেন। ওনার সত্তর হাজারের পেজকে আমি বছর দুয়েকের মধ্যে ১.২ মিলিয়ন করে দিই। এর জন্য কিন্তু কোনদিনও টাকা নেয়নি বা চাইনি। ভালোবেসেই করতাম, একজন শিল্পীকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। মূলত ওনার সঙ্গে আমাদের আলাপ একটা শুটে, এরপর আমরা একসঙ্গে বহু কাজ করেছি।

রিলস বানিয়ে দেওয়া থেকে, নাচের ভিডিও, কভার গান। ভাই বলত আমাদের, আমরাও পরিবারের মতোই মিশতাম। উনার সঙ্গে যখন আমাদের কাজের পরিমাণ বাড়লো, দুর্গাপুর ছেড়ে আমরা কলকাতায় চলে আসলাম। দীঘা মন্দারমনি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমরা শুটিং করেছি। যাতায়াতের একটা খরচ লাগতো, কাজেরও তো টাকাই লাগে। সেই মুহূর্তে আমাদের বলা হতো, সবকিছুর হিসেব রাখতে। ভবিষ্যতে সব টাকা উনি মিটিয়ে দেবে, এই আশায় আমরাও তাই করতাম। এমন করতে করতে দেড় বছর পর, আমাদের দুজনের হিসেবের অঙ্ক দাঁড়ালো ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মতো।

আরও পড়ুনঃ রবিবারের সকালে সুখবর টলিপাড়ায়! মা হলেন ভক্তিগীতি ও লোকগায়িকা অদিতি মুন্সী! ঘরে এল ফুটফুটে পুত্র না কন্যা সন্তান?

আমরা ধীরে ধীরে ওনাকে টাকা চাইতে শুরু করি। প্রথমে উনি প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে আর ফোন ধরতেন না। তারপর ওনার মা ফোন ধরা শুরু করেন, বলা হয় মেয়ে হাসপাতালে তাই টাকা হবে না। পারিবারিক অবস্থা ভালো না, এইসব বলে দিনের পর দিন আমাদের ঘোরাতে শুরু করে। আমাদের কাছে আজও হিসেব আছে সবকিছু, উনার সঙ্গে যা চ্যাট হয়েছে সেগুলোও আছে। কিছুদিন যাওয়ার পর আমরা বুঝতে পারি, ওই টাকা আর পাবো না। এরপর দুজনে সরে আসি, সমস্ত দায়িত্ব থেকে।

আজও ওনার ইউটিউব ভিডিওতে গেলে, ভিডিওগ্রাফারের জায়গায় আমাদের নাম দেখতে পাবেন। যেমনটা বর্তমানে সমাজ মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে, উনি মোটেও তেমনটা নয়। দরকারে মানুষকে কাজে লাগিয়ে, পরে ছুঁড়ে ফেলে দেন। আমরা ওই টাকার আশা আর রাখছি না, কিন্তু আপনাদের সামনে সত্যিটা তুলে ধরতেই এই ভিডিও করা।” উল্লেখ্য, সংবাদ মাধ্যমে তার আ’ত্মহ*ত্যার চেষ্টা ঘটনায় কিছুদিন আগেই উঠে এসেছিল ৭৮ টি ঘুমের ওষু’ধ খাওয়ার প্রসঙ্গ, সেই নিয়েও বিস্তর বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। আবার নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল এই ভিডিও!

You cannot copy content of this page