‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে প্রতিযোগীদের মধ্যে ঝগড়া, মনোমালিন্য, দলাদলি এবং একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার লড়াই নতুন কিছু নয়। প্রতিদিনই কোনও না কোনও ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ঘরের পরিবেশ। কখনও নমিনেশন, কখনও অধিনায়কত্বের লড়াই, আবার কখনও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন বিতর্ক। এর মাঝেই ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে অভিনেতা সৌরভ দাসের প্রবেশ যেন খেলার পরিবেশে কিছুটা নতুন স্বাদ এনে দিয়েছে। দর্শকদের একাংশের মতে, সৌরভ যদি প্রথম দিন থেকেই প্রতিযোগী হিসেবে ঘরে থাকতেন, তাহলে এত দিনে খেলার চিত্র অনেকটাই অন্যরকম হতে পারত। কারণ, তাঁর মধ্যে এমন একটি সহজাত মজার স্বভাব রয়েছে, যা কাউকে আঘাত না করেও চারপাশের পরিবেশ প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে। শুধু ঝগড়া বা তর্ক নয়, নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়েও যে দর্শকদের মনোরঞ্জন করা সম্ভব, সৌরভের উপস্থিতিতে সেই বিষয়টিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রায় দু’সপ্তাহ আগে অভিনেত্রী রণিতা দাসের সঙ্গে ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে বিগ বসের ঘরে প্রবেশ করেন সৌরভ। মাঝপথে প্রতিযোগিতায় যোগ দিলেও খুব বেশি সময় নষ্ট না করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন তিনি। ঘরের সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁর প্রতিক্রিয়া এবং মজার ছলে কঠিন বিষয় সামলে নেওয়ার ধরন নজর কেড়েছে দর্শকদের। বিশেষ করে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ না করে হাসি-মজার মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষমতাই তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, বিগ বসের মতো প্রতিযোগিতায় যেখানে প্রায়ই কথার লড়াই ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছে যায়, সেখানে সৌরভের এই স্বভাব বেশ আলাদা। কোনও কথা বলার সময় সামনের মানুষটিকে ছোট না করে কী ভাবে পরিস্থিতি সামলানো যায়, তা তাঁর আচরণে দেখা যাচ্ছে। সেই কারণেই অনেকের মনে হচ্ছে, প্রথম থেকেই ঘরে থাকলে নিজের এই বিশেষ দিকটি আরও ভালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ পেতেন অভিনেতা।
তবে সৌরভের খেলা শুধু হাসি-মজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি বিগ বসের বাড়িতে অধিনায়কত্বের লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। ১ নভেম্বরের পর্বে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, সেই সপ্তাহে একজন নয়, তিনজন প্রতিযোগীকে একসঙ্গে ঘরের দায়িত্ব সামলাতে হবে। সেই অনুযায়ী সৌরভ দাস, জিতু কমল এবং সৃজলা গুহকে নিয়ে তৈরি হয় একটি দল। অন্যদিকে প্রতিযোগীদের মধ্যে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব এবং দলের হয়ে কাজ করা নিয়ে মতবিরোধও দেখা যায়। একটি বিশেষ শারীরিক খেলায় অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করায় দুর্নিবার সাহা এবং নিরঞ্জন মণ্ডলকে সঞ্চালকের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়। এই পরিস্থিতিতে সৌরভের উপস্থিতি এবং দলের হয়ে দায়িত্ব সামলানোর বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। অন্যদিকে রাজবীর দে-র সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একসময় রাজবীরের মনোনয়নের তালিকায় সৌরভের নাম থাকলেও প্রতিযোগিতার নিয়ম মেনেই বিষয়টিকে দেখছেন অভিনেতা। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে খেলার পরিস্থিতি সামলানোর দিকটিও এখন তাঁর যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে সৌরভের খেলা নিয়ে শুধু সাধারণ দর্শকদের মধ্যেই নয়, তাঁর পরিবারেও চলছে আলোচনা। সম্প্রতি স্ত্রী দর্শনা বণিক জানিয়েছেন, সৌরভের প্রবেশের পর বিগ বসের বাড়িতে যে বিনোদনের অভাব ছিল, তা অনেকটাই পূরণ হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। দর্শনার কথায়, স্বামীকে বাদ দিলে প্রতিযোগীদের মধ্যে রাজবীর দে-র খেলাও তাঁর বেশ পছন্দ। তবে শেষ পর্যন্ত সৌরভকেই বিজয়ী হিসেবে দেখতে চান তিনি। অন্যদিকে সৌরভের মাও সম্প্রতি রাজবীর ও নন্দিনী দত্তের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দু’জনের সম্পর্কের প্রকাশ কিছু ক্ষেত্রে মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমেও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কেউ সৌরভের মায়ের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ তাঁর ছেলের অভিনীত বিভিন্ন কাজের প্রসঙ্গ তুলে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন। ফলে ঘরের ভিতরে সৌরভের খেলার পাশাপাশি বাইরে তাঁর পরিবারকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে আলাদা চর্চা।
আরও পড়ুনঃ “সুযোগ পেয়েও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে বেরোতে পারলেন না!” “৪৮ ঘণ্টা আপনি যেমন অন্যদের দেখেছেন, দর্শকও আপনাকে দেখেছে…আপনি বাকিদের চিনেছেন, বাকিরাও কিন্তু আপনাকে চিনেছে!” এই বাড়িতে কেউই সুপ্রিমো বা ঈশ্বর নয়! সিক্রেট রুম থেকে ফিরে ক্ষমতার দাপটে নন্দিনীর আচরণে বেজায় চটলেন মৈত্রেয়ী মিত্র! রাজবীরের প্রেমিকাকে একহাত নিলেন?
সব মিলিয়ে সৌরভের বিগ বসের সফর এখন দর্শকদের কাছে বেশ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেরই মনে হচ্ছে, প্রতিযোগিতার একেবারে শুরু থেকে তাঁকে নিয়ে আসা হলে ঘরের পরিবেশে আরও বেশি বৈচিত্র্য দেখা যেত। কারণ, বিনোদন মানেই যে শুধু ঝগড়া, চিৎকার কিংবা অন্যকে অপমান করা নয়, সৌরভের স্বভাব তারই একটি উদাহরণ। তাঁর মজার কথাবার্তা, সহজভাবে পরিস্থিতি সামলানো এবং অন্যদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করছে বলে মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। তবে মাঝপথে প্রবেশ করার কারণে নিজের খেলার সব দিক প্রকাশ করার জন্য কতটা সময় পাবেন, সেটাই এখন দেখার। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলানোর পর আগামী দিনে আরও কী ভাবে নিজের উপস্থিতি জানান দেন অভিনেতা, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। দর্শকদের একাংশের মতে, বিগ বসের মতো প্রতিযোগিতায় সৌরভের মতো প্রাণবন্ত প্রতিযোগী শুরু থেকেই থাকলে শুধু খেলার সমীকরণ নয়, বিনোদনের ধরনও হয়তো অনেকটাই বদলে যেত।






