“সুযোগ পেয়েও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে বেরোতে পারলেন না!” “৪৮ ঘণ্টা আপনি যেমন অন্যদের দেখেছেন, দর্শকও আপনাকে দেখেছে…আপনি বাকিদের চিনেছেন, বাকিরাও কিন্তু আপনাকে চিনেছে!” এই বাড়িতে কেউই সুপ্রিমো বা ঈশ্বর নয়! সিক্রেট রুম থেকে ফিরে ক্ষমতার দাপটে নন্দিনীর আচরণে বেজায় চটলেন মৈত্রেয়ী মিত্র! রাজবীরের প্রেমিকাকে একহাত নিলেন?

‘বিগ বস বাংলা’র বাড়িতে একের পর এক নতুন মোড় আসছে। কখনও বন্ধুত্বের সমীকরণ বদলাচ্ছে, কখনও আবার প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি দর্শকদের ভোটে নন্দিনী দত্তের বাড়ি থেকে বিদায়ের কথা ঘোষণা করা হলেও, বাস্তবে তাঁর যাত্রা শেষ হয়নি। সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মঞ্চ থেকে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল একটি গোপন ঘরে। সেখানে বসেই প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে বাড়ির বাকি প্রতিযোগীদের গতিবিধি, কথাবার্তা এবং তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কের উপর নজর রাখার সুযোগ পান তিনি। বিশেষ পর্দার মাধ্যমে ঘরের ভিতরের বিভিন্ন মুহূর্ত দেখতে পাচ্ছিলেন নন্দিনী। অন্যদিকে, মূল বাড়ির সদস্যরা জানতেন না যে নন্দিনী তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ্য করছেন। এরপর ভূত জুলির সাজে মূল বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।

তবে ফেরার পর থেকেই তাঁর আচরণ এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে নতুন সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে গোপন ঘর থেকে ফিরে হাতে পাওয়া বিশেষ ক্ষমতাগুলি কী ভাবে ব্যবহার করলেন নন্দিনী, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মূল বাড়িতে ফিরেই একাধিক বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করেন নন্দিনী। প্রথমেই জিতু কমল, সৃজলা গুহ এবং নিরঞ্জন মণ্ডলের মতো প্রতিযোগীদের নেতিবাচক দিকগুলি সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে বাড়ির পরবর্তী অধিনায়ক বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। ভোটাভুটির মাধ্যমে সৌরভ দাসকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেন নন্দিনী। এই সিদ্ধান্তে জিতু ও সৃজলা ছাড়া বাকি সদস্যদের সমর্থনও পান সৌরভ। তবে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয় তাঁর তৃতীয় ক্ষমতা প্রয়োগের পর।

একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মনামী ঘোষকে সরাসরি পরবর্তী সপ্তাহের জন্য মনোনীত করেন নন্দিনী। শুধু তাই নয়, মনামীকে বিশ্বাসঘাতক বলেও আক্রমণ করেন তিনি। নন্দিনীর অভিযোগ, রাজবীরের সঙ্গে মনামীর ঘনিষ্ঠতা আসলে ক্যামেরায় নজর কাড়ার চেষ্টা ছাড়া কিছুই ছিল না। নন্দিনী ফিরে আসায় মনামী যে খুশি হননি, সেটাও তাঁর চোখ এড়ায়নি। অন্যদিকে মনামীও নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে পিছপা হননি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া কেউ আবার ফিরে এলে স্বাভাবিক ভাবেই খেলার সমীকরণ কঠিন হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর প্রতিক্রিয়া অস্বাভাবিক নয়। এমনকি নন্দিনীর নেতিবাচক আচরণের কারণেই বাইরে থাকলে তাঁর থেকে সাত থেকে দশ হাত দূরে থাকতেন বলেও জানান মনামী।

এ বার নন্দিনীর এই প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর আচরণ নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্র। তিনি নিয়মিত ‘বিগ বস বাংলা’ দেখেন এবং সমাজমাধ্যমে প্রতিযোগীদের খেলা নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ ভাগ করে নেন। নন্দিনী গোপন ঘরে থেকে বাকিদের লক্ষ্য করার সুযোগ পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই ক্ষমতা ব্যবহার করার সময় তিনি নিজেই যে দর্শকদের নজরে রয়েছেন, তা কি ভুলে গিয়েছেন? মৈত্রেয়ীর বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। তাঁর মতে, ক্ষমতা হাতে পেয়ে নন্দিনী হয়তো ভেবেছেন, তিনি বাড়ির বাকিদের আসল চেহারা চিনে ফেলেছেন। কিন্তু এই ৪৮ ঘণ্টায় দর্শকরাও যে তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, সেটা তাঁর মনে রাখা উচিত ছিল। নন্দিনীর অভিনয় করার চেষ্টা, মুখের অদ্ভুত ভঙ্গি করে তালি দেওয়া এবং বারবার ক্যামেরার নজরে আসার চেষ্টা, কোনও কিছুই দর্শকদের চোখ এড়ায়নি বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

তাই বাড়ির অন্য প্রতিযোগীদের সমালোচনা করার আগে নিজের আচরণ নিয়েও নন্দিনীর ভাবা উচিত ছিল বলে তাঁর মত। একই সঙ্গে মৈত্রেয়ী প্রশ্ন তুলেছেন, নন্দিনীকে গোপন ঘরে পাঠানোর প্রয়োজনই বা কেন হয়েছিল? তাঁর মতে, এটি একটি খেলার অংশ হলেও সেই সুযোগ পাওয়ার পর প্রতিযোগীর আচরণই শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক প্রকাশ করে দেয়। নন্দিনীর ফিরে আসার পর বাড়ির বাকিদের প্রতিক্রিয়া নিয়েও মুখ খুলেছেন মৈত্রেয়ী। তাঁর মতে, কোনও প্রতিযোগী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে এলে অন্য সদস্যরা যে খুব একটা খুশি হবেন না, সেটাই স্বাভাবিক। কারণ, এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক খেলা এবং একে একে প্রত্যেককেই প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হবে। সেখানে একজন ফিরে এলে অন্যদের প্রতিযোগিতার চাপ বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাই প্রত্যেকে আনন্দিত হওয়ার ভান করবেন, এমনটা আশা করা যায় না।

মৈত্রেয়ীর বক্তব্য, নন্দিনী নিজেও যদি অন্য কোনও প্রতিযোগীর জায়গায় থাকতেন, তা হলে হয়তো তাঁর প্রতিক্রিয়াও আলাদা হত না। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, গোপন ঘর থেকে ফিরে এসেও নন্দিনী নিজের ব্যক্তিগত রাগ বা অভিমান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেননি। হাতে ক্ষমতা পেয়েও অন্যদের প্রতি তাঁর আচরণে সেই ব্যক্তিগত বিরোধের ছাপ দেখা গিয়েছে। মৈত্রেয়ীর কথায়, নন্দিনী হয়তো মনে করছেন তিনি বাড়ির বাকিদের চিনে ফেলেছেন, কিন্তু অন্য সদস্যরাও যে তাঁকে বুঝে গিয়েছেন, সেটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষ করে রাজবীরের আচরণেও এই পরিবর্তনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। অন্যদিকে, নন্দিনী ফিরে আসার পর রাজবীর দে-র আচরণেও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নন্দিনী না থাকাকালীন রাজবীরকে বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে অনেক বেশি স্বাভাবিক ভাবে মিশতে দেখা গিয়েছিল। এমনকি তনুশ্রী রায় দাস এবং সৌরভ দাসও জানিয়েছিলেন, নন্দিনী না থাকায় রাজবীর নিজের মতো করে খেলতে পারছিলেন। সৌরভের দাবি ছিল, নন্দিনী রেগে যান বলে রাজবীর অনেকের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারতেন না।

আরও পড়ুনঃ “আমি তো মুসলিম বাড়ির মেয়ে, মুসলিম বাড়ির বউ…আমার স্বামীও তো মুর্শিদাবাদের ‘আলম’!” বরাবর স্পষ্টবাদী অভিনেত্রী, হঠাৎ নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও স্বামীর প্রসঙ্গে কেন এমন কথা বললেন মানসী সিনহা? বামপন্থী অভিনেত্রীর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা!

কিন্তু নন্দিনী ফিরে আসার পর রাজবীর অন্য মেয়েদের প্রশংসা করায় তাঁদের মধ্যে নতুন করে অশান্তি শুরু হয়। রাজবীর নিজের বক্তব্য বোঝানোর চেষ্টা করলেও নন্দিনী তাঁর সঙ্গে স্বাভাবিক হতে চাননি। একসময় বিরক্ত হয়ে রাজবীর বলেও ফেলেন, তিনি নন্দিনী না থাকায় অনেক শান্তিতে ছিলেন। এই বিষয়টিও মৈত্রেয়ীর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জিতু কমলের সাম্প্রতিক বক্তব্যকেও সমর্থন করেছেন তিনি। তাঁর মতে, জিতু সঠিক জবাব দিয়েছেন এবং সেটাই এই খেলার স্বাভাবিক অংশ। সৌরভ দাসের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, সৌরভের আরও আগে বাড়িতে আসা উচিত ছিল, তা হলে হয়তো খেলার সমীকরণ অন্য রকম হত। সবশেষে মৈত্রেয়ীর বক্তব্য, এই বাড়িতে কেউই একা সবকিছু নন, আবার কাউকেই গুরুত্বহীন ভাবার সুযোগ নেই। প্রত্যেক প্রতিযোগীরই নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন, তা এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে এই খেলা যে প্রত্যেকের ব্যক্তিত্বের নানা দিক সামনে আনছে, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।

You cannot copy content of this page