“আমি তোর মা নই…” সৎ ছেলেকে প্রথমেই এমন কথা কেন বলেছিলেন সুদীপা? সেই পরিচয় ছাপিয়ে আজ সবচেয়ে কাছের মানুষ! বড় ছেলে আকাশের জন্মদিনে অভিনেত্রীর স্মৃতিচারণায় উঠে এল কঠিন সময়ের গল্প! তারপর কীভাবে বদলাল সমীকরণ?

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ সুদীপা চট্টোপাধ্যায় শুধু সঞ্চালিকা বা অভিনেত্রী হিসেবেই নন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বহুবার চর্চায় উঠে এসেছেন। পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সংসার এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই রয়েছে। সম্প্রতি অগ্নিদেবের বড় ছেলে আকাশ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে একটি বিশেষ পোস্ট করে আবারও সেই পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণ দিকটি সামনে আনলেন সুদীপা। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি আকাশকে শুধুই পরিবারের সদস্য নয়, বরং নিজের জীবনের অন্যতম ভরসার মানুষ বলেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আকাশের উদ্দেশে করা পোস্টে সুদীপা লিখেছেন, “শুভ জন্মদিন, টিনটিন (আকাশের ডাকনাম)। সবসময় আমার শক্তি, আমার গাইডবুক এবং অবশ্যই একজন অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আমাদের সবার পক্ষ থেকে অনেক অনেক ভালোবাসা। মা দুর্গা তোমাকে সেরা আশীর্বাদে ভরিয়ে দিন।” এই বার্তাতেই স্পষ্ট, দীর্ঘ সময়ের পথচলার পর তাঁদের সম্পর্ক কতটা গভীর হয়েছে। শুধু সুদীপা নন, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও আকাশের সম্পর্ক অত্যন্ত আন্তরিক। বিশেষ করে ছোট ভাই আদিদেবের জীবনে বড় দাদার গুরুত্ব আলাদা করে উল্লেখ করার মতো।

তবে এই সুন্দর সম্পর্কের শুরুটা এত সহজ ছিল না। অগ্নিদেবের প্রথম পক্ষের ছেলে আকাশ যখন পড়াশোনার জন্য হস্টেলে থাকতেন, সেই সময়ই সুদীপা তাঁদের জীবনে আসেন। স্বাভাবিকভাবেই বাবার জীবনে নতুন একজন মহিলার উপস্থিতি ছোট বয়সের আকাশ সহজভাবে নিতে পারেননি। সেই কঠিন পরিস্থিতির কথা এক সাক্ষাৎকারে স্মরণ করেছিলেন সুদীপা। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রথমদিকে আকাশ তাঁকে বাবার জীবনের নতুন মানুষ হিসেবেই দেখত এবং দূরত্ব বজায় রাখত। তখনই সম্পর্ককে অন্য পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

সেই প্রসঙ্গেই সুদীপা একসময় বলেছিলেন, “প্রথমে ও যখন হস্টেল থেকে আসত, বাবার জীবনে অন্য মহিলা বা বাবার বান্ধবী হিসেবে আমায় একেবারেই মেনে নিতে পারেনি। একদিন আমিই আকাশকে ডেকে বলি, তোমার মায়ের জায়গা আমি কখনও নেব না। কিন্তু আমরা ভালো বন্ধু তো হতে পারি? সেদিন আমার মুখে এই কথাটা শুনে ও বেশ চমকে গিয়েছিল।” এই কথোপকথনের পর ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। বন্ধুত্ব, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকেই গড়ে ওঠে নতুন এক সম্পর্ক, যা সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “ওর দেহে তখনও প্রাণ ছিল, এমন মে’রেছে মুখ দিয়ে র’ক্ত বেরোচ্ছিল…” চোখের সামনে ভয়ঙ্কর পরিণতি! নৃশং’সতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী! শিউরে ওঠার মতো অভিযোগে তোলপাড় নেটপাড়া, উঠল কড়া শাস্তির দাবি!

আকাশের পরিণত মানসিকতার কথাও বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন সুদীপা। এমনকি তাঁর এবং অগ্নিদেবের আইনি বিয়ের দিনেও আকাশ উপস্থিত ছিল না, কারণ সে চেয়েছিল নিজের মায়ের পাশে থাকতে। সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েই সুদীপা বলেছিলেন, “সত্যি বলছি, আকাশের মতো ছেলে হয় না।” বর্তমানে আকাশ, আদিদেব, অগ্নিদেব এবং সুদীপাকে নিয়ে একটি সুখী পরিবার গড়ে উঠেছে। জন্মদিনের এই পোস্ট যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, সম্পর্কের ভিত্তি সবসময় রক্তের বন্ধন নয়; ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং বোঝাপড়াও একটি পরিবারকে সমানভাবে শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

You cannot copy content of this page