“মেয়েদের সব সময় স্বাধীনতা থাকে না, অনেক ক্ষেত্রে আবার মেয়ের বাড়ির হস্তক্ষেপেও অশান্তি হয়!” বিষয়টা একপেশে ভাবে দেখলে চলবে না! দেবলীনা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়! জানালেন নিজের কোন অভিজ্ঞতা?

এরকম ঘটনা যখন সামনে আসে, তখন বোঝা যায় এটা কোনও এক জনের ব্যক্তিগত যন্ত্রণা নয়, বরং আমাদের সমাজের ভিতরে জমে থাকা এক গভীর সমস্যার প্রতিফলন। পরিবার, সম্পর্ক আর সামাজিক প্রত্যাশার চাপ মিলিয়ে আজও বহু মানুষ এমন সব প্রশ্নের মুখে পড়েন, যার সহজ কোনও উত্তর নেই। বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও, ভিতরে ভিতরে এই টানাপড়েন অনেক সময় ভয়ংকর রূপ নেয় আর তখন সেই যন্ত্রণা কেবল ব্যক্তিগত থাকে না, সমাজকেও নাড়া দেয়।

সম্প্রতি গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) অভিজ্ঞতা সেই কথাই নতুন করে সামনে এনেছে। তিনি লাইভ ভিডিয়োয় এসে নিজের দাম্পত্য জীবনের জটিলতার কথা বলেছিলেন, যেখানে তাঁর অভিযোগ ছিল শ্বশুরবাড়ির তরফে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিয়ে চাপের। মা ও স্বামীর মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, এমন এক জায়গায় পৌঁছেছিলেন যেখান থেকে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও দ্রুত চিকিৎসার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবু মানসিক ক্ষত যে সহজে সারে না, এই বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সমাজ মাধ্যমে নানান মত উঠে এসেছে। অনেকেই বলছেন, এমন পরিস্থিতির শিকার মূলত মেয়েরাই হন। আবার একটি অংশের বক্তব্য, সম্পর্কের জটিলতায় শুধু মেয়েরা নন, অনেক সময় ছেলেরাও বিপাকে পড়েন। কখনও মেয়ের পরিবারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ থেকেও দাম্পত্যে অশান্তি তৈরি হয়! অর্থাৎ সমস্যাটা একপেশে নয়, বরং পারিবারিক সমীকরণের ভেতরে থাকা ক্ষমতা আর বোঝাপড়ার অভাব থেকেই এর জন্ম। এই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন জনপ্রিয় সঞ্চালিকা ও অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়।

তাঁর জীবনে এমন এক সময় এসেছিল, যখন কাজের সূত্রে দাদারা বাইরে থাকায় মা একা হয়ে যাচ্ছিলেন। তখন পরিবারের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, মা সুদীপার কাছেই থাকবেন। এই সিদ্ধান্তে তাঁর স্বামী অগ্নিদেবের সমর্থন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সুদীপা নিজেও বলেছেন, ‘মেয়েদের ক্ষেত্রে এই স্বাধীনতাটুকু সব সময় থাকে না, তবে এটাও সত্যি যে সব দিক বিবেচনা না করলে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে।’ তাঁর মায়ের স্বভাব ছিল নিজের মতো করে চলা এবং শ্বশুরবাড়ির বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। তাঁর মতে, এটাও সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘কাঞ্চনের মা’ল’, ‘কাঞ্চনদা আর কটা!’ “আমার জীবনের সব সত্যি লিখে একটা বই ছাড়ব!” ইন্ডাস্ট্রির কটা’ক্ষ আর সম্পর্কের তি’ক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে আত্মজীবনী লিখবেন শ্রীময়ী-কাঞ্চন! সেই লেখা প্রকাশ পাবে কবে?

সব মিলিয়ে দেবলীনার অভিজ্ঞতা আমাদের আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, সম্পর্কের সমস্যাকে শুধু নারী-পুরুষের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে চলবে না। মানুষ হিসেবে একে অপরের মানসিক অবস্থাকে বুঝতে শেখাটাই সবচেয়ে জরুরি। পরিবার মানে কেবল নিয়ম আর কর্তব্য নয়, সেখানে সহানুভূতি আর কথা বলার জায়গা থাকাটাও সমান দরকার। এমন ঘটনা যেন সতর্কবার্তা হয়ে আমাদের ভাবতে শেখায়, কারও নীরব কষ্টকে অবহেলা করলে তার ফল কতটা গুরুতর হতে পারে।

You cannot copy content of this page