“আমার ঠিকানা এরপর বৃদ্ধাশ্রম!” অভিনয়ে জীবনে সাফল্য, সংসারে অশা’ন্তি নেই! তবুও কেন নিজের বাড়িতে থাকার জায়গা হচ্ছে না ইন্দ্রানী হালদারের? হঠাৎ এই মন্তব্যে, কীসের ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী?

বিনোদন জগতে পর্দার ঝলমলে আলো, সাফল্যের হাসি আর জনপ্রিয়তার আড়ালে শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন অনেক সময়ই থাকে নিঃসঙ্গতায় ভরা। দর্শক যে অভিনেত্রীকে পর্দায় দেখেন হাসতে, কাঁদতে, সংসার সামলাতে—বাস্তব জীবনে তাঁর লড়াই, ভাবনা, ভয় কিন্তু একেবারেই আলাদা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা শিল্পীদের মনেও ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়। ঠিক সেই জায়গা থেকেই উঠে এসেছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদারের কথা।

ইন্দ্রাণী হালদার—বাংলা টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের এক পরিচিত নাম। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে একের পর এক শক্তিশালী চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। কখনও সংসারী নারী, কখনও সংগ্রামী চরিত্র, আবার বহু ধারাবাহিকে তিনি হয়ে উঠেছেন আদর্শ মা। ক্যামেরার সামনে তাঁর অভিনয় যতটাই পরিণত, বাস্তব জীবনে ততটাই সংযত ও ব্যক্তিগত।

কেরিয়ারে সাফল্যের অভাব হয়নি ইন্দ্রাণীর। আজও তিনি অভিনয়ে সক্রিয়, যদিও এখন বেছে বেছে কাজ করেন। কাজের বাইরেও তাঁর জীবনদর্শন, সমাজ নিয়ে ভাবনা বারবার উঠে এসেছে বিভিন্ন মঞ্চে। ধর্মীয় বিশ্বাসেও তিনি গভীরভাবে যুক্ত—জগন্নাথদেবের প্রতি তাঁর ভক্তি সুপরিচিত।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইন্দ্রাণী হালদার যে কথা বললেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। দীর্ঘদিন পর্দায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তব জীবনে তাঁর কোনও সন্তান নেই। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি অকপটে বলেন, বয়স হলে তাঁকে কে দেখবে—এই প্রশ্ন তাঁকে ভাবায়। তাই ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় তিনি রাখতে চান একটি বৃদ্ধাশ্রম।

আরও পড়ুনঃ “তুমি নাকি ডিভোর্স স্পেশালিস্ট!” বারবার দোষারোপ, কটা’ক্ষে বি’দ্ধ সায়ক! নেটিজেনের খোঁচায় এমন জবাব দিলেন ভ্লগার-অভিনেতা, মুহূর্তে বদলে গেল আলোচনা! কী বললেন তিনি?

ইন্দ্রাণীর কথায়, তিনি নিজে যেমন সেখানে থাকতে চান, তেমনই আরও বহু একা, অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে চান। সন্তানের অভাব, সমাজের চোখে ‘মা’ চরিত্রে পরিচিত একজন অভিনেত্রীর এমন সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বেশ অন্যরকম চিন্তাধারার প্রকাশ পায়।। তবে ইন্দ্রাণী হালদারের এই ভাবনায় স্পষ্ট—তিনি শুধু নিজের শেষ বয়স নয়, ভাবছেন শত শত নিঃসঙ্গ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়েও।

You cannot copy content of this page