বাংলার বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনীতিতে নতুন নাম ঘিরে জল্পনা বাড়ছে। এই আবহেই আলোচনায় উঠে এলেন সংগীতশিল্পী ‘অনীক ধর’ (Aneek Dhar)। রিয়েলিটি শো থেকে যাত্রা শুরু করে প্লেব্যাক, মঞ্চ-শিল্পী হিসেবে পরিচিতি তাঁর যথেষ্টই রয়েছে। ভক্তদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। সম্প্রতি তিনি সমাজ মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন রাজ্যের শাসক দলের নেতা ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর (Abhishek Banerjee) সঙ্গে। পোস্টে তিনি অভিষেকের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তাঁকে তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন, বলেন ‘ডায়নামিক’ নেতা!
এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এটি কি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি রাজনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত? ভোটের আগে রাজ্যে প্রার্থী বাছাই ঘিরে জোর প্রস্তুতি চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে শাসকদল যখন প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার ব্যস্ততায়, তখন অভিষেকের ভূমিকা যে গুরুত্বপূর্ণ তা রাজনৈতিক মহলে স্বীকৃত। সম্প্রতি তরুণ মুখকে অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়েও তিনি বার্তা দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে অনীকের প্রকাশ্য প্রশংসা এবং একসঙ্গে ছবি রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলার রাজনীতিতে বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদের প্রার্থী করা নতুন কিছু নয়। অতীতে যেমন জুন মালিয়া নির্বাচনে জয় পেয়েছেন, তেমনই অন্য ক্ষেত্রে ব্যর্থতার নজিরও রয়েছে। এছাড়াও সায়ন্তিকা, কাঞ্চন থেকে শুরু করে তালিকা বেশ লম্বা। ফলে কোনও তারকার নাম সামনে এলেই তা নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠা অস্বাভাবিক নয়। কিছুদিন আগেই ইমন এবং অপরাজিতার নাম নিয়েও কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল, যদিও অনেকেই ব্যক্তিগত কারণে রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
অনেকের মতেই, যে সব আসনে প্রার্থী নির্বাচন জটিল হয়ে ওঠে, সেখানে পরিচিত মুখকে সামনে আনার কৌশল প্রতিবার নেওয়া হয়। ‘কঠিন আসনে ভোটের অঙ্ক মেলাতে সেলিব্রিটি পরিচিতি কাজে লাগতে পারে’ এই ধারণা থেকেই এমন সিদ্ধান্তের জন্ম। অনীকের ক্ষেত্রেও সেই সমীকরণ প্রযোজ্য কি না, তা এখনই বলা কঠিন। তবে সময়টা যে কথা বলবে, তা মানছেন অনেকেই। তবে, সমাজ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে এখন থেকেই! কেউ বলছেন, “অনিক ভাই তুমিও শেষে গোয়ালে ঢুকলে?
আরও পড়ুনঃ “আমি রাত দু’টোয় ওখানে মজা করতে যাব না, ছবিটাও করব না!” ঋতুপর্ণ ঘোষকে মধ্যরাতের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তাপস পাল! টলিউডে তাঁর ছবির অংশ মানেই স্বপ্নপূরণ, সেখানে সোজা নাকচ! নেপথ্যে আসল কারণ কী, জানালেন অভিনেতার স্ত্রী নন্দিনী পাল?
গানটা মন দিয়ে গাইতে পারতে।” অন্যজনের কটাক্ষ, “হাতে কাজ নেই, যাই একটু চ’টি চে’টে আসি!” একজন তো সরাসরি বলেছেন, “শো জিতেও তো প্রতিষ্ঠিত হতে পারলেন না..এবার চেটে কতদূর এগোতে পারেন দেখেন, বঙ্গভূষণ পাকা!” সব মিলিয়ে অনীকের একটি ছবি ও প্রশংসাসূচক পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি নিজে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা বলেননি, তবু সামাজিক মাধ্যমে এই উপস্থিতি জল্পনায় ইন্ধন দিয়েছে ভালোই।






