ভারতীয় সংগীত দুনিয়ায় আজ এক উজ্জ্বল নাম অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ কোটি কোটি শ্রোতা। তবে শুধু সাধারণ মানুষই নন, সংগীত জগতের বহু খ্যাতনামা শিল্পীর কাছেও তিনি ভীষণ প্রিয়। সেই তালিকায় রয়েছেন বর্ষীয়ান গায়িকা উষা উত্থুপ (Usha Uthup)। একবার অরিজিৎকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এই গায়ককে দেখলে বা তাঁর গান শুনলেই তিনি আবেগে ভেসে যান। তাঁর কথায়, অরিজিৎ শুধু অসাধারণ শিল্পীই নন, মানুষ হিসেবেও অত্যন্ত ভালো এবং বিনয়ী। সেই কারণেই তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
উষা উত্থুপ স্মৃতিচারণ করে জানান, তিনি প্রথম অরিজিতকে দেখেছিলেন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ফেম গুরুকূল (Fame Gurukul) এর মঞ্চে। তখন অরিজিৎ একেবারে তরুণ প্রতিযোগী, চোখে স্বপ্ন আর মনে প্রবল জেদ। সেই সময় থেকেই তাঁর গানের প্রতি নিষ্ঠা ও পরিশ্রম চোখে পড়েছিল উষার। তিনি বলেন, ছোট্ট সেই ছেলেটিকে ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে আজকের এই জায়গায় পৌঁছাতে দেখাটা তাঁর কাছে ভীষণ আবেগের বিষয়। সেই পথচলার কথা ভাবলেই গর্বে ভরে ওঠে মন।
একটি বিশেষ ঘটনার কথাও শেয়ার করেছিলেন উষা। তিনি জানান, বাংলা ছবি খাদ এর একটি গান শুনে তিনি চোখের জল আটকাতে পারেননি। গানটির নাম দেখো আলোয় আলোয় আকাশ (Dekho Aloy Alo Akash)। উষা বলেন, প্রথমবার গানটি শুনেই তাঁর মন গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। শুধু এই গানই নয়, অরিজিতের গাওয়া আরও অনেক গান আছে যেগুলো শুনলে মানুষের চোখে জল এসে যায়। তাঁর কণ্ঠে এমন এক আবেগ রয়েছে যা সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে লাগে।
অসাধারণ জনপ্রিয়তা এবং সাফল্য অর্জন করেও অরিজিৎ সিং আজও মাটির মানুষ হিসেবেই পরিচিত। তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের জিয়াগঞ্জ-এ। সেখানেই পরিবার নিয়ে শান্ত জীবন কাটাতে ভালোবাসেন তিনি। স্ত্রী কোয়েল এবং দুই ছেলের সঙ্গে সময় কাটানোই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ। নিজের বাড়িতেই একটি স্টুডিও তৈরি করেছেন তিনি, যেখানে বসেই নিয়মিত গান নিয়ে কাজ করেন এবং নতুন সুর তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যান।
আরও পড়ুনঃ “আমি কোনও অপরাধ করিনি…ক্ষমতাবান হতে পারেন, এভাবে আঙুল দেখিয়ে মঞ্চ থেকে নামানো যায় না!” গান চলাকালীন পুলিশি দাদাগিরিতে ক্ষুব্ধ শিলাজিৎ! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক বাড়তেই মুখ খুললেন গায়ক! কী জানালেন তিনি?
কিছুদিন আগে অরিজিৎ জানিয়েছিলেন, তিনি আর নিয়মিত প্লেব্যাক গানে মন দেবেন না। এই খবর শুনে অনেক ভক্তই অবাক হয়েছিলেন। তবে পরে গায়ক নিজেই জানান, গান থেকে তিনি সরে যাচ্ছেন না। বরং নতুন ধরনের স্বাধীন সংগীত নিয়ে কাজ করতে চান এবং নতুন শিল্পীদের সুযোগ করে দিতে চান। পাশাপাশি যেসব সিনেমায় তিনি আগে থেকেই প্লেব্যাকের কাজ নিয়েছেন, সেগুলোও সম্পন্ন করবেন। ফলে আগামী বছরগুলোতেও সিনেমায় তাঁর কণ্ঠ শোনা যাবে এবং শ্রোতারা তাঁর গানের জাদু উপভোগ করতে পারবেন।






