“সাফল্যের নেশায় মগ্ন ছিলাম, প্রথম সন্তানের জন্মের সময়…” জনপ্রিয়তার পথে এগোতে গিয়ে করতে হয়েছে অনেক ত্যাগ, ৬০-এর দোরগোড়ায় এসে আক্ষেপ অলকা ইয়াগ্নিকের! ৩৬ বছর একাকিত্বের জীবনযাপন নিয়ে কী বললেন গায়িকা?

বলিউডের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অলকা ইয়াগ্নিক তার স্বতন্ত্র কণ্ঠের কারণে কোটি মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে যখন লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে বলিউডে রাজত্ব করছিলেন, তখনই অলকা তাঁর অনন্য মাধুর্যপূর্ণ কণ্ঠের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে মুম্বই আসার পর তিনি চলচ্চিত্র জগতে সুনামি পাওয়া কিংবদন্তি পরিচালক রাজ কাপুরের সঙ্গে পরিচিত হন। রাজ কাপুর তাঁর কণ্ঠ শুনে তাঁকে সংগীত পরিচালক জুটি লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলালের কাছে নিয়ে যান।

প্রথমদিকে অলকা ডাবিংয়ের কাজ পেয়েছিলেন, তবে তিনি স্থির সিদ্ধান্ত নেন গান গাইতে চেয়েছেন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে গান করার সুযোগ পান। শুরুতে পথটা মোটেই সহজ ছিল না। বড় বড় শিল্পীর ভিড়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে তাঁকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। তবে তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠের সতেজতা ও আলাদা গায়কী দ্রুতই তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। সময়ের সঙ্গে তিনি কুমার শানু ও উদিত নারায়ণ-এর সঙ্গে অসংখ্য সুপারহিট গান উপহার দেন, যা আজও সমান জনপ্রিয়।

অলকা ইয়াগ্নিকের ব্যক্তিগত জীবন কিছুটা আলাদা। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে তিনি তাঁর স্বামী নীরজ ইয়াগনিকের সঙ্গে আলাদা থাকেন। কাজের কারণে মুম্বইতে থাকতে হয়, আর স্বামীর ব্যবসা শিলংয়ে। দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ক টিকে আছে পারস্পরিক বোঝাপড়ায়। এক সাক্ষাৎকারে অলকা জানান, বিয়ের এক বছর পর তাঁর একটি মেয়ে সন্তান হয়। তখনই তাঁর ‘এক-দো-তিন’ গানটি হিট হয়। সাফল্যের মুহূর্তে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি পুরো মনোযোগ দিতে পারেননি।

সাফল্যের জন্য অলকা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। কাজের ব্যস্ততা, দীর্ঘ সময়ের দূরত্ব এবং ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা সবকিছু মিলিয়ে তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তবু গান ও কণ্ঠের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কখনো কমেনি। প্রতিটি গানে তিনি শ্রোতার হৃদয়ে সরাসরি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। এই কারণে আজও বলিউড সংগীতের জগতে তাঁর নাম উজ্জ্বল এবং অনবদ্য।

আরও পড়ুনঃ “দেবলিনার মাকে অপমানের অভিযোগে সরব…প্রবাহকে অন্ত*র্বাসও কিনে দিত, তখন গলা তুলেছিলেন! সুস্মিতার ক্ষেত্রে নীরব কেন? দাদার সব শখ পূরণ করা বৌদির মাকে অপমান করলো কীভাবে?” দ্বিচারিতার অভিযোগে সমাজ মাধ্যমে কাঠগোড়ায় সায়ক চক্রবর্তী!

অলকা ইয়াগ্নিকের কণ্ঠের জাদু এখনও অমলিন। তাঁর গানের শক্তি ও জনপ্রিয়তা সময়ের পরীক্ষায় অটুট। ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা সত্ত্বেও তিনি বলিউডের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর গল্প প্রমাণ করে, সাফল্য ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। অদম্য পরিশ্রম এবং প্রতিভা যে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি, তা অলকা ইয়াগ্নিকের জীবন স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে।

You cannot copy content of this page