“ভয় জিনিসটা আমার জীবনে জায়গা পায়নি, পাহাড়ের উঁচু চূড়ায় শুটিং করেছি” “অন্যরা যেখানে দাঁড়াতে ভয় পায়, আমি শট দিতে রাজি” মৃ’ত্যুর আগে রাহুল অরুণোদয়ের আত্মবিশ্বাসী বার্তা! “আজ ঈশ্বর যদি আপনাকে একটু ভয় দিতেন, তাহলে এত তাড়াতাড়ি চলে যেতে হত না” ভাইরাল ভিডিও ঘিরে মনখারাপ নেটপাড়ার!

বাংলা টেলিভিশন জগতের পরিচিত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইন্ডাস্ট্রিতে। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু অনেককেই হতবাক করে দিয়েছে। সহকর্মী থেকে অনুরাগী সবার কাছেই তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, পরিশ্রমী এবং সাহসী একজন শিল্পী। এমন একজন মানুষের হঠাৎ করে এভাবে চলে যাওয়া কেউই মেনে নিতে পারছেন না। পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীদের চোখে এখন শুধু শূন্যতা।

২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন সময়ই আচমকা তলিয়ে যান তিনি। ঘণ্টাখানেক পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আর্টিস্ট ফোরামের তরফে প্রযোজকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর পর সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুলের একটি পুরনো ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

সেই ভিডিওতে তিনি নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, ভয় নামের জিনিসটা নাকি তাঁর জীবনে খুব একটা জায়গা পায়নি। পাহাড়ের উঁচু চূড়ায় শুটিং হোক বা বিপজ্জনক লোকেশন সব জায়গাতেই তিনি নির্ভীকভাবে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন। এমনকি তিনি হেসে বলেছিলেন, অন্যরা যেখানে দাঁড়াতে ভয় পায়, তিনি সেখানে গিয়ে শট দিতে রাজি। নিজের ফিটনেস নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। কাজের প্রতি তাঁর এই নির্ভীক মনোভাবই তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছে।

আরও পড়ুন: “চতুর্থ বারেও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়” দ্বিতীয় দফা মিটতেই মেগাস্টারের ‘মেগা’ ভবিষ্যৎবাণী! রাজ্যে চাকরি নেই, তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে অর্জি রাখবে মুখ্যমন্ত্রীকে! আর কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, জানালেন তিনি?

তবে এই ভিডিও এখন যেন নতুন করে কাঁদাচ্ছে তাঁর অনুরাগীদের। অনেকেই মন্তব্য করছেন, “একটু ভয় থাকলে হয়তো এমনটা হত না।” কেউ লিখেছেন, “আজ মনে হচ্ছে, ঈশ্বর যদি ওনাকে একটু ভয় দিতেন, তাহলে হয়তো এত তাড়াতাড়ি চলে যেতে হত না।” আবার কেউ কেউ তাঁর পরিবারকে স্মরণ করে বলছেন, এই ক্ষতি শুধু একজন অভিনেতার নয়, একজন ছেলের, বন্ধুর এবং প্রিয় মানুষের। এই ধরনের মন্তব্যে ভরে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট সেকশন।

রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি ইন্ডাস্ট্রির জন্যও এক বড় ধাক্কা। সহকর্মীরা তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং সাহসিকতার কথা মনে করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। পাশাপাশি, এই ঘটনার পর শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই চাইছেন, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। সব মিলিয়ে, এক প্রতিভাবান অভিনেতার অকাল প্রয়াণ বাংলা বিনোদন জগতকে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।

You cannot copy content of this page