পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ তৃণমূল কংগ্রেস প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর থেকেই দলকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফার খবর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। তবে সেই বিতর্কের মাঝেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে অভিনেত্রী ও তৃণমূলের সাংসদ কোয়েল মল্লিকের নাম। রাজনৈতিক মহলের একাংশে জোর গুঞ্জন, তিনিও নাকি রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়ার কথা ভাবছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে আসেনি। তবু এই জল্পনা ঘিরে টলিউড ও রাজনীতির অন্দরে কৌতূহল বাড়ছে। মাত্র কয়েক মাস আগে সংসদে পা রাখা এক সাংসদকে ঘিরে এমন আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই চমক হিসেবে ধরা পড়েছিল। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের পর তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকায় আসা নিয়ে তখনও নানা আলোচনা হয়েছিল। সেই সময় কোয়েল জানিয়েছিলেন, তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে চান এবং সেই উদ্দেশ্যেই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মধ্যেই তাঁর সম্ভাব্য ইস্তফা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করায় নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণেই এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও কোয়েলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এই জল্পনার মধ্যেই সাধারণ মানুষের মনে আরেকটি প্রশ্ন উঠে এসেছে। একজন রাজ্যসভার সাংসদ প্রতি মাসে কত বেতন এবং কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান? বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী একজন সাংসদের মাসিক মূল বেতন ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কাজের জন্য মাসে ৭০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। অফিস পরিচালনা, কর্মী এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খরচের জন্য আরও ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে একজন সাংসদের নির্দিষ্ট আর্থিক প্রাপ্তি প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। ফলে কোয়েল মল্লিকের সম্ভাব্য ইস্তফা নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই এই আর্থিক সুবিধাগুলিও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
শুধু মাসিক বেতন নয়, সাংসদদের জন্য আরও একাধিক বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে। সংসদের অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা করে দৈনিক ভাতা পাওয়া যায়। এছাড়া সাংসদ ও তাঁদের পরিবারের জন্য বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিনামূল্যের বিমান ও ট্রেন যাত্রার সুবিধা রয়েছে। দিল্লিতে সরকারি বাসস্থান, বিদ্যুৎ, জল, টেলিফোন এবং ইন্টারনেট পরিষেবার সুবিধাও দেওয়া হয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা বা সিজিএইচএস-এর সুবিধাও পান তাঁরা। সাংসদ পদে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আজীবন পেনশনের ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে এই পদ শুধুমাত্র রাজনৈতিক মর্যাদার নয়, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কারণেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
আরও পড়ুনঃ দল বিপাকে পড়তেই, দিদির ক্ষমতা খর্ব হতেই শিবির বদল দেবের! তারকা দিয়ে রাজনীতি হয় না! এবার কী তবে বুঝবেন মমতা? পুরনো খোঁচা ফের দিলেন কুণাল
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভার জন্য কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করেছিলেন। এরপর ৩ এপ্রিল তিনি সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর মেয়াদ ২০৩২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। সেই কারণেই মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁকে ঘিরে ইস্তফার জল্পনা রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাকি অন্য কোনও কারণ, কোন বিষয় এই জল্পনার উৎস তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফার খবর সামনে আসার পর কোয়েল মল্লিককে ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।






