২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ অভিযান শুরু করেই ফের বিশ্বকে চমকে দিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও যে তাঁর জাদু একটুও ফিকে হয়নি, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ইউরোপের ক্লাব ফুটবল থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিরতির পরও মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল চোখধাঁধানো। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা যখন মেসির এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত, তখন বাংলাতেও তাঁকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে সেই আলোচনা শুধুমাত্র ফুটবলকে কেন্দ্র করে নয়, বরং কয়েক মাস আগের এক বিতর্কিত ঘটনাকেও সামনে এনে দিয়েছে। আর সেই সূত্রেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখ।
মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের পর জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেন একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেন, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি সরাসরি কারও নাম না নিলেও, কয়েক মাস আগে কলকাতায় মেসির সফরের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সামনে এনে তীব্র কটাক্ষ করেন। ঋদ্ধি লেখেন, “আজকে আবার লজ্জা লাগছে, অবাক লাগছে। লিওনেল মেসিকে শেষমেষ মাসি-মেসোরা অপদস্থ করেছিল? মেসির হ্যাটট্রিকের এই অবিশ্বাস্য খেলা আর ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে এক ভেবে ফেলা যায়? বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আশ্চর্যকে মাঠের মধ্যে হেঁচকা মেরে টেনে নিয়ে তাঁর কোমর জড়িয়ে ছবি তোলা যায়?” তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই মনে করেন, তিনি কলকাতার এক প্রভাবশালী মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই এই বার্তা দিয়েছেন।
ঋদ্ধি সেন তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, “যাকগে, হয়তো ইহাই তফাৎ G.O.A.T (Greatest Of All Time) আর ছাগলের (goat)।” এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক নেটিজেন অভিনেতার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের দাবি, আন্তর্জাতিক মানের একজন ক্রীড়াবিদের সঙ্গে যে ধরনের ব্যবহার করা হয়েছিল, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অন্য একটি অংশ এই মন্তব্যকে অতিরঞ্জিত বলেও মত প্রকাশ করেছে। তবে মেসির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের দিনে এই পোস্ট যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, তা বলাই যায়। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
শুধু ঋদ্ধি সেন নন, মেসির সাফল্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেছেন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ও। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লেখেন, “এই চূড়ান্ত সাফল্য সেলিব্রেট করতে মেসি বাল্যবন্ধুর অনুপ্রেরণায় বিরাট ভাইফোঁটার উৎসব পালন করতে চলেছে কি?” তাঁর এই পোস্ট ঘিরেও নেটমাধ্যমে শুরু হয় জোর চর্চা। পোস্টের নিচে বহু মানুষ মন্তব্য করে নিজেদের মতামত জানান। অনেকের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক তারকাদের রাজনীতির প্রচার বা দলীয় ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়ানোর যে প্রবণতা দেখা যায়, ভাস্বরের কটাক্ষ সেই বিষয়কেই তুলে ধরেছে। ফলে মেসির হ্যাটট্রিকের আনন্দের পাশাপাশি পুরনো বিতর্কও ফের আলোচনায় উঠে আসে।
প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে স্পোর্টস প্রোমোটার শতদ্রু দত্তের উদ্যোগে কলকাতায় এসেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই অনুষ্ঠান ঘিরে তৎকালীন সময়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নির্ধারিত প্রোটোকল না মেনে মেসির ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশ করেন। এমনকি মাঠে নেমে তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তখন থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। অনেকের মতে, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের সঙ্গে এমন আচরণ বাংলার ভাবমূর্তির পক্ষে সুখকর ছিল না।
আরও পড়ুনঃ “মিসেস চক্রবর্তী আর কত নিচে নামবেন?” “যে নায়কের জন্য ছবির এত নাম, আসল সময়েই তাকে সাইডলাইনে!” প্রাপ্য সম্মানটুকুও দেওয়া হল না! অ্যাওয়ার্ড হাতে অকৃতজ্ঞের মতো আচরণ, জিতুর নাম নিতেই ভুলে গেলেন শুভশ্রী! ‘লেডি সুপারস্টার’কে ধুয়ে দিলেন জিতু ভক্তরা!
এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে মেসি আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতেই সেই পুরনো ক্ষোভ নতুন করে সামনে চলে এসেছে। টলিপাড়ার একাংশ মনে করছেন, একজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদকে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে আরও সংযত ও পেশাদার আচরণ প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই বাংলার সেই বিতর্কিত অধ্যায়ও ফের আলোচনায় উঠে এসেছে। ফলে ফুটবল, রাজনীতি এবং বিনোদন জগতের এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া এখন সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।






