“আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নই, কিন্তু…” “দিল্লির যন্তরমন্তরে যা ঘটছে তা অত্যন্ত যৌক্তিক, সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও অহিংস উপায়ে!” জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তির আবহেই ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সরব অঞ্জন দত্ত! শিক্ষার জন্য ন্যায়বিচারের দাবিকে কুর্নিশ জানিয়ে কী বললেন পরিচালক?

বাংলা সিনেমার বর্ষীয়ান পরিচালক অঞ্জন দত্ত সম্প্রতি ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বড় স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর পরিচালিত ‘চালচিত্র এখন’ সেরা বাংলা ছবির সম্মান অর্জন করেছে। এই ছবিটি অঞ্জন দত্ত এবং তাঁর ছেলে নীল দত্তের নিজস্ব প্রযোজনায় তৈরি। পুরস্কার পাওয়ার পর পরিচালক জানিয়েছিলেন, এই সম্মান শুধু একটি ছবির সাফল্য নয়, স্বাধীনভাবে সিনেমা তৈরির সাহস এবং প্রচেষ্টারও স্বীকৃতি। সেই আবহ এখনও কাটেনি, এর মধ্যেই দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজের মত প্রকাশ করে আবারও আলোচনায় উঠে এলেন তিনি। দিল্লির যন্তরমন্তরে চলা ছাত্র আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই পরিচালক।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় অঞ্জন দত্ত আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দিল্লির যন্তরমন্তরে যা ঘটছে এবং শিক্ষার্থীরা যে দাবির পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।” তবে এই বক্তব্যের আগে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তাঁর কথায়, “আমি কখনোই কোনও ধরনের রাজনীতি বা রাজনৈতিক দলের ওপর আস্থা রাখিনি। দলীয় রাজনীতিতে আমার কখনোই বিশ্বাস ছিল না। আমি কোনও দলের সদস্য হইনি, কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিইনি, কোনও মিছিলেও অংশ নিইনি। ছাত্রজীবন থেকেই এসব থেকে দূরে থেকেছি।

আমার বয়স এখন ৭৩ বছর। জীবনে অনেক কিছুই দেখেছি, কিন্তু কোনও রাজনৈতিক এজেন্ডায় কখনোই বিশ্বাস করিনি। আমি অস্তিত্ববাদে বিশ্বাসী। আমি ব্যক্তির শক্তিতে বিশ্বাস করি, সমষ্টির শক্তিতে নয়।” এরপরও তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। অঞ্জন দত্ত বলেন, “আজ আমাকে স্বীকার করতেই হচ্ছে যে, দিল্লির যন্তরমন্তরে যা ঘটছে এবং শিক্ষার্থীরা যে দাবির পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।” তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচিত সরকারের ওপর আস্থা রাখি। আমি সংবিধানে বিশ্বাস করি এবং এখনও করি। কিন্তু যখন দেখি আমার দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী শিক্ষার মতো একটি পবিত্র বিষয় নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে,

শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছে এবং তা করছে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও অহিংস উপায়ে, তখন আমাকে তাদের কুর্নিশ করতেই হয়।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকারের প্রতি আস্থা রেখেও তিনি ছাত্রদের গণতান্ত্রিক দাবিকে সমর্থন করছেন। ভিডিওর শেষ অংশে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন পরিচালক। তিনি বলেন, “ওরা আমাকে একজন ভারতীয় হিসেবে গর্ব করার সুযোগ করে দিয়েছে। এমন একটি দেশে বাস করতে পেরে আমি গর্বিত, যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে ঘটে চলা কোনও অবিচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও অহিংস উপায়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। আমি তাদের সবাইকে কুর্নিশ জানাই এবং অসংখ্য ধন্যবাদ দিই।”

তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। অনেকেই পরিচালকের অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং তাঁর মন্তব্য নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অঞ্জন দত্তের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে একাংশ। কারণ, তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে জীবনে কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হননি কিংবা দলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করেননি। তবুও দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবি এবং তাদের প্রতিবাদের পদ্ধতিকে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে যেমন সংবিধান এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার কথা উঠে এসেছে, তেমনই শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারের দাবিকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ এক আত্মার দুই দেহ! বাংলা টেলিভিশনে প্রথমবার রাধা-কৃষ্ণের চিরন্তন প্রেমের গাথা! প্রকাশ্যে নতুন ধারাবাহিক ‘রাধা মাধব’-এর প্রথম প্রোমো! রাধা হচ্ছেন স্বীকৃতি মজুমদার? কৃষ্ণের ভূমিকায় থাকছেন কোন জনপ্রিয় নায়ক?

জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরপরই এমন একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে অঞ্জন দত্তের প্রকাশ্য অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মহলের একাংশের মতে, দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থেকেও একজন প্রবীণ চলচ্চিত্রকার যে নিজের মত স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেন, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। তাঁর ভিডিও বার্তা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে চলা বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

You cannot copy content of this page