“এমন মা’রলাম পড়ে গেল…নাক ভেঙে গলগল করে র’ক্ত বের হচ্ছে, আমি দেখে চলে গেলাম” “আমাকে বলত ‘বাঙালি জাট’, মে’রে নাক ভেঙে দেওয়াটা আমার খুবই পছন্দের!” একসময় অল্পতেই ঝগড়া বা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তেন, প্রচুর মা’রপিটও করেছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী! তবে কী এমন ঘটেছিল তাঁর জীবনে যে সম্পূর্ণ বদলে গেলেন তিনি? অকপটে জানালেন বর্ষীয়ান অভিনেতা!

বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ‘সব্যসাচী চক্রবর্তী’ (Sabyasachi Chakroborty) প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত। থিয়েটার থেকে অভিনয়জীবনের শুরু হলেও পরে বড় পর্দা ও ছোট পর্দা মিলিয়ে একের পর এক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। বিশেষ করে ফেলুদা চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও সমান জনপ্রিয়। এই দুই চরিত্রের মাধ্যমে একাধিক প্রজন্মের দর্শকের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন অত্যন্ত প্রিয় মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব, শৃঙ্খলাবোধ এবং বাস্তব জীবনের নানান অভিজ্ঞতাও প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে।

সম্প্রতি এমনই এক সাক্ষাৎকারে নিজের অতীত জীবনের কিছু বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। সাক্ষাৎকারে সব্যসাচী চক্রবর্তীকে প্রশ্ন করা হয়, অনেকেই তাঁকে ‘বাঙালি জাট’ বলে ডাকেন। এই নামের পিছনে কী কারণ রয়েছে? উত্তরে অভিনেতার দাবি, “দিল্লিতে থাকাকালীন স্কুলে একবার এক পাঞ্জাবি ছেলের মেরে দাঁত ভেঙে দিয়েছিলাম। তারপর থেকেই আমার এমন নামকরণ হয়।” এরপর থেকেই অনেকেই তাঁকে ‘বাঙালি জাট’ নামে ডাকতে শুরু করেন। অভিনেতার দাবি, সেই সময় তিনি অত্যন্ত রাগী স্বভাবের ছিলেন এবং অল্পতেই ঝগড়া বা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তেন।

এরপর আরও একটি প্রশ্নের উত্তরে সব্যসাচী চক্রবর্তী দাবি করেন, একসময় তিনি প্রচুর মারপিট করেছেন। তাঁর কথায়, “মেরে নাক ভেঙে দেওয়াটা আমার খুবই পছন্দের! একসময় প্রচুর মারপিট করেছি, একবার এক ট্যাক্সিওয়ালারও নাক ভেঙে দিয়েছিলাম কথা কাটাকাটি নিয়ে। প্রথমে পেটে মারতাম, নিচু হয়ে গেলেই মাথাটা হাঁটুটা ঠুকলেই নাকটা ভেঙে যেত। মারলাম পড়ে গেল…নাক ভেঙে গলগল করে রক্ত বের হচ্ছে, আমি দেখে চলে গেলাম।” সাক্ষাৎকারে নিজের অতীতের এই ঘটনাগুলি অকপটেই তুলে ধরেন তিনি।

এরপর অভিনেতাকে জানতে চাওয়া হয়, অভিনয় জগতে আসার পর কোনও দিন কি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন আবার কারও উপর হাত তুলতে ইচ্ছে হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে সব্যসাচী চক্রবর্তীর সুর অনেকটাই বদলে যায়। তিনি জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ভাবনাও বদলেছে। অভিনেতা এবার সুর নরম করে জানান, “না, তখন তো বুঝতাম না। পরে বুঝেছি যে ওরকম ভাবে মারলে অনেক লাগে। ওই কষ্ট, ওই ব্যথা আমি আর কাউকে দিতে চাই না!” তাই ইচ্ছে থাকলেও আর কখনও সেই পথে হাঁটেননি।

আরও পড়ুনঃ নিজেও ছিলেন অসাধারণ চিত্রশিল্পী, স্বামীর সাফল্যের জন্য সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে নিজের উপার্জনে টিকিয়ে রেখেছিলেন সংসার! সাফল্যের শিখরে পৌঁছতেই তাঁকে ও তিন কন্যাকে ত্যাগ করে নতুন সংসার পাতেন সলিল চৌধুরী! কিংবদন্তিকে প্রতিষ্ঠা করেও শেষ পর্যন্ত একাই লড়তে হয়েছিল জীবনযুদ্ধ! জ্যোতি চৌধুরীর হৃদয়বিদারক পরিণতি আজও চোখ ভিজিয়ে দেয়! কীভাবে মৃ’ত্যু হয়েছিল তাঁর?

সব্যসাচী চক্রবর্তী আরও বলেন, জীবনের অভিজ্ঞতা মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। তাঁর দাবি, আজ তিনি কাউকে সেই যন্ত্রণা দিতে চান না, যা একসময় রাগের মাথায় অন্যদের দিয়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে মানুষের চিন্তাভাবনা এবং মানসিকতার পরিবর্তন হওয়াই স্বাভাবিক বলেও মনে করেন তিনি। তাই অতীতের ঘটনাগুলি লুকিয়ে না রেখে বরং সেগুলি থেকে কী শিক্ষা পেয়েছেন, সেটাই খোলাখুলি তুলে ধরেছেন অভিনেতা। উল্লেখ্য, বাংলা অভিনয় জগতের একজন বর্ষীয়ান শিল্পী হিসেবে সব্যসাচী চক্রবর্তীকে দর্শক আজও অসীম ভালোবাসা দেন। তবে একই সঙ্গে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বদলে যাওয়ার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, সেটিও অনেকের নজর কেড়েছে।

You cannot copy content of this page