গত কয়েক মাস ধরেই গায়িকা অদিতি মুন্সিকে (Aditi Munshi) ঘিরে নানান বিতর্ক বারবার সামনে এসেছে। কখনও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কখনও সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে আলোচনা হয়েছে। আবার রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চেও তাঁকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সমাজ মাধ্যমে বহুদিন ধরেই দাবি করা হচ্ছে, পরিচিতির জোরে বা বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে তিনি নাকি প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। এমনকি সহ প্রতিযোগী সৌম্য চক্রবর্তীর তরফ থেকেও বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এই সমস্ত বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করলেন একই রিয়েলিটি শোয়ের আরেক প্রতিযোগী ও জনপ্রিয় গায়ক রাহুল দত্ত (Rahul Dutta)।
রাহুল দত্ত জানান, মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই তিনি সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলায় রিয়েলিটি শো জিতলেও পরবর্তীকালে ভয়েস পরিবর্তনের কারণে তাঁকে প্রায় তিন বছর গান থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল। সেই কঠিন সময় কাটিয়ে তিনি আবার নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর মতে, রিয়েলিটি শো একজন শিল্পীকে পরিচিতি দিলেও সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে নিয়মিত পরিশ্রম ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। তাই তিনি সবসময় নিজের গান, লাইভ পারফরম্যান্স এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিকের উপরেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সমাজমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা বা বিতর্ক চলতেই থাকে, কিন্তু সবকিছুকে সত্যি বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
অদিতি মুন্সিকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে রাহুল স্পষ্ট বলেন, অদিতিরা তাঁদের আগের ব্যাচের প্রতিযোগী ছিলেন। তাঁর কথায়, রিয়েলিটি শো চলাকালীন প্রায় প্রত্যেক প্রতিযোগীকেই ঘিরে কোনও না কোনও কনস্পিরেসি তৈরি হয়। কখনও স্ক্রিপ্ট রাইটারের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন, কখনও পরিচিতির জোরে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, এই ধরনের বিষয় নতুন নয়। তবে তিনি বলেন, “যদি পরিচিতির জোরে একজনকে জিতিয়ে দেওয়া যেত তাহলে আমিই জিততাম। কারণ আমি যখন ন বছর বয়সে গানের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হই, তখন বিচারকের আসনে মোনালি ঠাকুর এবং শান্তনু মৈত্র ছিলেন। পরে সারেগামাপায় অডিশন দিতে গেলে ওনারা আমাকে চিনতে পেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু প্রথম গান শুনেই সিলেক্ট করেননি। বরং আরও একটি গান শোনার পর সন্তুষ্ট হয়েছিলেন।”
রাহুল আরও বলেন, তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কোনও প্রতিযোগী যদি প্রতিদিন খারাপ গান করেন, তাহলে তাঁকে শুধুমাত্র পরিচিতির জোরে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, একজন শিল্পী এক-দু’দিন খারাপ গাইতেই পারেন, কিন্তু দিনের পর দিন খারাপ পারফরম্যান্স করেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বাস্তবে সম্ভব নয়। বিচারক, দর্শক এবং পারফরম্যান্স, এই তিনটি বিষয়ই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই অদিতি মুন্সিকে ঘিরে যে অভিযোগগুলি দীর্ঘদিন ধরে ছড়িয়ে পড়েছে, তার অনেকটাই তাঁর কাছে ভিত্তিহীন বলেই মনে হয়েছে। রাহুলের মতে, সমাজমাধ্যমে অনেক সময় না জেনেই নানা মন্তব্য করা হয়, যা অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করে।

আরও পড়ুনঃ “‘দিদি’ বলেই কথা বলতেন, হঠাৎই ন*গ্ন ছবির সঙ্গে হু’মকি ও অ’শ্লীল বার্তা দিতে শুরু করেছেন!” সমাজ মাধ্যমে বি’স্ফোরক অভিযোগ অভিনেত্রী চাঁদনী সাহার! কার বিরুদ্ধে হেন’স্থার অভিযোগ এনে তদন্তের আর্জি অগ্নিমিত্রা পাল ও রুদ্রনীলের কাছে?
বর্তমানে রাহুল নিজের সংগীতজীবন নিয়েই ব্যস্ত। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছর তিনি শুধুমাত্র নিজের কেরিয়ার ও নতুন গান তৈরির উপরেই মন দিতে চান। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বিয়ের চেয়ে এই মুহূর্তে তাঁর কাছে সংগীতই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তবে অদিতি মুন্সিকে ঘিরে চলা বিতর্ক প্রসঙ্গে তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেখানে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ঘিরে অদিতির নাম চর্চায় রয়েছে, অন্যদিকে একই রিয়েলিটি শোয়ের একজন প্রতিযোগীর মুখে এমন বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে মতভেদও তৈরি হয়েছে।






