সোশ্যাল মিডিয়ার কেউই এখনও ঠিক করে বিশ্বাস করতে পারছেন না যে সায়নী চক্রবর্তীর আর বেঁচে নেই। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক তরুণী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সারের রহস্যমৃ’ত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই এক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পরিবারের দাবি, এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। পণের দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতনের ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে এই মৃত্যু ঘটল, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকেই।
মৃত তরুণীর নাম প্রিয়াংশী কাশ্যপ। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তিনি যথেষ্ট পরিচিত মুখ ছিলেন এবং তাঁর অনুরাগীর সংখ্যাও কম ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হর্ষিত মেহতা নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, বিয়ের শুরুর কিছুদিন সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। অভিযোগ, বিয়ের সময় যথেষ্ট উপহার এবং নগদ অর্থ দেওয়া হলেও শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আরও টাকার দাবি করা হয়। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় প্রিয়াংশীর উপর মানসিক চাপ বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ পরিবারের। ধীরে ধীরে সেই চাপ নির্যাতনের রূপ নেয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অতিরিক্ত পণের দাবিকে কেন্দ্র করে প্রিয়াংশীকে নিয়মিত অপমান করা হতো। শুধু মানসিক নির্যাতন নয়, তাঁর উপর শারীরিক অত্যাচারও চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, মেয়ে একাধিকবার তাঁদের কাছে নিজের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। এমনকি পণের জন্য শ্বশুরবাড়ির চাপে থাকার বিষয়টিও তিনি পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এই আশায় তাঁরা বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনারই ভয়াবহ পরিণতি দেখা গেল বলে মনে করছে মৃতার পরিবার।
গতকাল হঠাৎই প্রিয়াংশীর শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর পরিবারের কাছে খবর পৌঁছায় যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা প্রিয়াংশীর মৃতদেহ দেখতে পান। এরপরই মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ আরও গভীর হয়। পরিবারের দাবি, এটি কোনও দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করে তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী, শাশুড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ রঞ্জিত মল্লিকের চরিত্রে রোহন ভট্টাচার্য! ছোটবেলা থেকেই শুনতেন গল্প, এবার তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে বড় সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত অভিনেতা! আসছে বর্ষীয়ান অভিনেতার জীবনভিত্তিক ছবি? টলিউডের ‘বেল্ট ম্যান’কে কতটা ফুটিয়ে তুলতে পারবেন তিনি?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি পণের দাবিতে নির্যাতন এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন। পরিবারের সদস্যদের বয়ানও ইতিমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় এক তরুণী ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যু ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সমাজে পণপ্রথা এবং নারীর নিরাপত্তা নিয়ে।






