ফের নক্ষত্র পতন। প্রয়াত ভারতীয় নাট্যজগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, অভিনেত্রী ও পরিচালক। মঙ্গলবার গভীর রাতে মুম্বইয়ে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নাটক, চলচ্চিত্র এবং সংস্কৃতি জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বিজয়া মেহতা শুধু একজন পরিচালক নন, ভারতীয় পরীক্ষামূলক নাট্যচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। মারাঠি থিয়েটারে তাঁর অবদান আজও বিশেষভাবে স্মরণীয়। ‘রঙ্গায়ন’ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন হিসেবে তিনি নতুন ধরনের নাট্যচর্চাকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও অভিনয়েও তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন।
তাঁর পরিচালিত ‘পেস্টনজি’, ‘রাও সাহেব’ সহ একাধিক ছবি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কর্মজীবনে তিনি বহু শিল্পীর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। নাট্য পরিচালনার নিজস্ব ধারা, শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা এবং নতুন প্রতিভাদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে সম্মানিত ছিলেন। ভারতীয় নাট্য ও চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে মূল্যায়িত হয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বিজয়া মেহতা একাধিক সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পদ্মশ্রী, সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মতো স্বীকৃতি তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই অভিনেতা, পরিচালক ও নাট্যব্যক্তিত্বরা সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। অনেকেই তাঁকে ভারতীয় নাট্যজগতের এক যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব বলে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ মমতা মুখ হলেও নাটের গুরু ছিল অভিষেক! ‘মমতার ভরসায় পাতার পর পাতা চিঠি লিখেছিলাম, সেই চিঠি ক্যামাক স্ট্রিটের ডাস্টবিনে গিয়েছে, অভিযোগ জেনেও পদক্ষেপ হয়নি!’ এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বি’স্ফো’রক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়
বিজয়া মেহতার প্রয়াণে ভারতীয় সংস্কৃতি জগতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল বলেই মনে করছেন অনেকে। তাঁর সৃষ্টি, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং নাট্যভাবনা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের পথ দেখাবে। অসংখ্য নাটক, চলচ্চিত্র এবং অগণিত ছাত্র-শিল্পীর মধ্যে তিনি আজও বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই।






