বাংলায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভিনেতা তথা ঘাটালের সাংসদ ‘দেব‘কে (Dev) ঘিরে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানো এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলার মাঝেই ফের মুখ খুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। গতকাল সমাজ মাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “দেব এক নম্বর অভিনেতা। তবে ওর রাজনীতি নিয়ে আমার বক্তব্য ঠিক ছিল কি না তা নেত্রী আজ বুঝবেন নিশ্চয়।” সেই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, দেবকে নিয়ে কুণালের দীর্ঘদিনের সমালোচনারই যেন নতুন প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ওই পোস্টে। তবে তার ঠিক একদিন পরই আরও একটি বার্তা দিয়ে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন তিনি।
নতুন পোস্টে কুণাল জানান, দেবকে নিয়ে তাঁকে অনেকেই প্রশ্ন করছেন। সেই কারণেই তিনি নিজের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁর কথায়, “দেব বাংলা সিনেমার সুপারস্টার। ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর ক্রাউড পুলার।” দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে দেবের অবস্থান নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। একইসঙ্গে কুণাল এও জানান যে, অভিনেতা হিসেবে দেবের সাফল্য নিয়ে তাঁর কখনও কোনও প্রশ্ন ছিল না। বরং কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে দেবের সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক অবস্থানগত কিছু বিষয় নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল, যা তিনি অতীতেও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
পোস্টে কুণাল আরও লিখেছেন, “ওর কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সমীকরণে রাজনৈতিক অবস্থানগত কারণে আমার আপত্তি ছিল। সেটা আমি স্পষ্ট জানাতাম। অভিনেতা এবং রাজনৈতিক সত্তার মেরুকরণ থেকে সেই জটিলতা ছিল। বাকিটা তৃণমূলনেত্রী ও দল বুঝবেন।” অর্থাৎ তাঁর আপত্তি মূলত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ছিল, ব্যক্তিগত বা পেশাগত স্তরে নয়। সেই কারণেই অতীতে দেবকে নিয়ে কটাক্ষ করলেও বর্তমানে তিনি বিষয়টিকে দলের নেতৃত্বের বিচারবিবেচনার ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। ফলে গতকালের বক্তব্যের পর আজকের পোস্টে অনেকটাই সংযত সুর দেখা গেল কুণালের কথায়।
এদিকে চলতি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বেও দেবের ভূমিকার প্রসঙ্গ বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, “এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মমতাদি ও অভিষেকের পর যদি কেউ সারা বাংলা ঘুরে প্রচার করে থাকে, সে দেব।” রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দেবকে নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও কুণাল তাঁর সাংগঠনিক অবদান এবং নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ভূমিকার কথা আলাদা করে স্বীকার করেছেন। এতে স্পষ্ট, দলের হয়ে তাঁর কাজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তৃণমূলের এই নেতা।
আরও পড়ুনঃ “আমি তোর মা নই…” সৎ ছেলেকে প্রথমেই এমন কথা কেন বলেছিলেন সুদীপা? সেই পরিচয় ছাপিয়ে আজ সবচেয়ে কাছের মানুষ! বড় ছেলে আকাশের জন্মদিনে অভিনেত্রীর স্মৃতিচারণায় উঠে এল কঠিন সময়ের গল্প! তারপর কীভাবে বদলাল সমীকরণ?
পোস্টের শেষাংশে দেবকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদও জানিয়েছেন কুণাল। তিনি লিখেছেন, “এবং সর্বশেষ, আমি দেবকে ধন্যবাদ দেব, কারণ আমার একটি অনুরোধে ব্যস্ত, ক্লান্তিকর প্রচার ও শ্যুটিংয়ের মধ্যেও সে বেলেঘাটা কেন্দ্রে আমার প্রচার করে দিয়ে গেছিল।” এই মন্তব্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে দেবকে নিয়ে কুণালের পুরনো সমালোচনা, অন্যদিকে তাঁর কাজের প্রশংসা এবং ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা, দুইয়ের মিশ্রণেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বার্তা। ফলে দেবের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা অব্যাহত থাকলেও, কুণালের সাম্প্রতিক পোস্টে সমালোচনার পাশাপাশি স্বীকৃতির সুরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।






