বাবার মৃ’ত্যু মানে কী, জানে না চার বছরের আরিয়া! শেষ বিদায়ে ছোট্ট শিশুর কন্ঠে শুধু ‘আই লাভ ইউ ড্যাডি’! প্র’য়াত সঙ্গীতশিল্পী প্রশান্ত তামাংয়ের শেষকৃ’ত্যে, মেয়ের প্রতিক্রিয়া ভেঙে দিয়েছে সবার মন!

দেশের সীমানা পেরিয়ে যাঁর কণ্ঠ বহু মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছিল, সেই প্রশান্ত তামাংয়ের (Prashant Tamang Death) জীবনের শেষ দৃশ্যটি যেন আর কোনও মঞ্চের আলো নয়, বরং নীরব শোকের মধ্যেই লেখা হয়ে রইল। গানের রিয়েলিটি শো থেকে শুরু করে কলকাতা পুলিশের দায়িত্ব, দুটো জগতই তিনি সমান নিষ্ঠায় সামলেছিলেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেও মাটির কাছেই ছিলেন, কাজের ফাঁকে অর্কেস্ট্রার সঙ্গে রেওয়াজ করতেন, আর বিশ্বাস করতেন যে সঙ্গীত কখনও চাকরির বাইরে কিছু নয়, বরং জীবনেরই অংশ। সেই বিশ্বাসই তাঁকে মানুষের কাছে আলাদা করে তুলেছিল।

কিন্তু তাঁর চলে যাওয়ার খবরে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে যে দৃশ্যটি, তা কোনও কনসার্ট বা পর্দার নয়। গত সোমবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে বাবার কফি’নের সামনে দাঁড়িয়ে চার বছরের ছোট্ট আরিয়া কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। চারপাশে কা’ন্না, হা’হাকার আর পরিচিত মুখের ভিড়ের মাঝেই সে বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে সে বলেছে, “আই লাভ ইউ ড্যাডি!” চোখে জল নেই, অথচ সেই কয়েকটি শব্দ যেন মুহূর্তে সকলকে ভেঙে দিয়েছে। শিশুসুলভ সরলতায় বাবাকে খুঁজে ফেরার সেই ডাকই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে ভারী বিদায়।

স্ত্রী গীতা থাপার চোখে তখন অশ্রু, তাঁকে আগলে ধরার চেষ্টা করছেন পরিবারের লোকজন ও উপস্থিত পরিজনেরা। এই দৃশ্য দেখে, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এক সময় আরিয়াকে কোলে তুলে নেন, যেন পরিস্থিতির ভার থেকে শিশুটিকে সামান্য হলেও দূরে রাখা যায়। অথচ আরিয়া বারবার বাবার কফিনের দিকেই তাকাচ্ছে, খুনসুটির ভঙ্গিতে কিছু বলছে আর যেটার মানে সে নিজেও হয়তো পুরো বোঝে না! গায়কের একমাত্র সন্তান আরিয়ার জন্ম আজ থেকে চার বছর আগে, আর এই অল্প বয়সেই বাবার ছায়া হারাতে হল তাকে।

প্রসঙ্গত, স্মৃতির ঝাঁপি খুললেই ভেসে উঠছে প্রশান্তের শেষ দিককার পোস্টগুলির কথা। এর মধ্যেই ছিল মেয়ের সঙ্গে তাঁর একটি সেলফি এবং ভিডিও, যেখানে আরিয়া আধো আধো গলায় গাইছে, “তু মেরি জান, তু মেরা দিল”। সেই ভিডিও আজ যেন নতুন করে ফিরে এসেছে মানুষের মনে। অনুরাগীরা বুঝতে পারছেন, গায়ক প্রশান্তের জীবনে সাফল্যের থেকেও বড় ছিল এই ছোট্ট মেয়েটি আর তার পরিবার। মঞ্চের আলোর আড়ালে তিনি ছিলেন একজন স্নেহশীল বাবা।

আরও পড়ুনঃ এলাকাবাসীর স্বপ্নপূরণ! সায়ন্তিকার উদ্যোগে বিবেকানন্দের নামে, নতুন এলাকার নামকরণ! স্বামীজির জন্মবার্ষিকীতে বিশেষ উপহার অভিনেত্রী-বিধায়কের!

অকাল প্র’য়াণে সঙ্গীত ও অভিনয় জগত অবশ্যই একজন প্রতিভাবান শিল্পীকে হারাল। ‘পাতাল লোক’-এর দ্বিতীয় সিজনে তাঁর শেষ অভিনয়, কিংবা প্রথম অ্যালবাম ‘ধন্যবাদ’, সবই থেকে যাবে কাজের স্মারক হয়ে। কিন্তু এর বাইরেও যে ছবি সবচেয়ে গভীর ছাপ রেখে গেল, তা হল বাবার কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিশুর কণ্ঠে বলা তিনটি শব্দ, “আই লাভ ইউ ড্যাডি!” হয়তো এই কথাগুলিই প্রশান্ত তামাংয়ের জীবনের সবচেয়ে নিঃশব্দ, অথচ সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তরাধিকার হয়ে রইল!

You cannot copy content of this page