“প্রশ্নপত্র ফাঁস পৃথিবীতে নতুন কিছু নয়, তাতে মানসিকভাবে দুর্বলরাই আ’ত্মহ*ত্যার সিদ্ধান্ত নেয়” “এই বিষয় নিয়ে এক লাইনও খবর রাখিনি” নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে দিল্লিতে পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষের মন্তব্যে শোরগোল! দেশজুড়ে লাখ লাখ ছেলেমেয়েদের স্বপ্নভঙ্গ, ভবিষ্যৎ কার্যত অন্ধকারে! দায়ে নেবে কে, জানালেন দুই তারকা-রাজনীতিবিদ?

দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন এখন জাতীয় স্তরে অন্যতম আলোচিত বিষয়। এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বহু ছাত্র-ছাত্রী ও যুবক-যুবতী। আন্দোলনের সমর্থনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা যেমন সরব হয়েছেন, তেমনই সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একাধিক পড়ুয়ার আত্মহত্যার অভিযোগ সামনে আসায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, সরকারের ভূমিকা এবং আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে যখন দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন এই বিষয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ এবং অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী রূপা গাঙ্গুলী। দু’জনের বক্তব্যে উঠে এসেছে দুটি ভিন্ন অবস্থান।

প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দিল্লির আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুদ্রনীল ঘোষ প্রথমেই সোনম ওয়াংচুককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর মতে, সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তাঁর ভাবমূর্তি এবং আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য দুইয়েরই ক্ষতি করছে। রুদ্রনীলের কথায়, “রাহুল বাবু বা অন্যান্য যে রাজনৈতিক দল আসলে এটা একটা রাজনৈতিক ব্যাপার বলে প্রচার করে দিচ্ছেন, তাতে কিন্তু সোনম বাবুর উপরে একটা সন্দেহ তৈরি হয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “সোনম ওয়াংচুক সাহেবের যে দাবি বা ইচ্ছা, সেটাকে রাজনীতিকরণ করিয়ে তাঁর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করার জন্য একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে।” তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলগুলির এই হস্তক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের কাছেও আন্দোলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

রুদ্রনীল ঘোষ আরও জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সোনম ওয়াংচুককে চেনেন না। তবে যদি তাঁর সঙ্গে পরিচয় থাকত, তাহলে তিনি পরামর্শ দিতেন যাতে রাজনৈতিক স্বার্থে কেউ তাঁর আন্দোলনকে ব্যবহার করতে না পারে। তাঁর বক্তব্য, “আমি যদি চিনতাম, তাহলে বলতাম যারা ঢুকে ওনার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের থেকে যেন ওনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।” তাঁর মতে, কোনও সামাজিক বা জনস্বার্থমূলক আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিশেষ করে আন্দোলনের কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তির স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকলে, সেখানে রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের হিসাব করা একেবারেই উচিত নয়। তাই আন্দোলনের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সম্মান জানিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির সংযত হওয়ারও বার্তা দেন তিনি।

প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার জেরে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনাকে সরকারি ব্যর্থতা হিসেবে দেখার প্রসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তিনি বলেন, “প্রশ্নফাঁস পৃথিবীতে প্রথম হচ্ছে না।” তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয় এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে তিনি পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। রুদ্রনীলের বক্তব্য, “বিভিন্ন কারণে প্রচুর মানুষ এই ধরনের ঘটনায় যারা একটু দুর্বল হন, একটু অনুভূতিপ্রবণ হন, তারাও অনেক সময় অনেক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন, যেটা দুর্ভাগ্যজনক এবং সেটা কখনও হওয়া উচিত নয়।” তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, শুধুমাত্র পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ার কারণেও বহু ছাত্র-ছাত্রী আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাঁর মতে, কোনও অভিযোগ সামনে এলে অবশ্যই তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম এবং সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে এমন পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ার বার্তা দেওয়া। “একটু মন শক্ত রাখতে হবে” এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করাই শ্রেয়।

আরও পড়ুনঃ “ঢুকতে দিয়েছি তাই ঢুকেছিস, শোন বাচ্চা…” “এখন নাকি বাংলায় কিছু বললে হাজত বাস হচ্ছে?” ধান্দাবাজরা এমন ক্ষেপে যায় কেন? দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই তীব্র কটাক্ষ! মুখ খুললেন অরিজিৎ সিং, তারপর যা বললেন তা ঘিরেই শুরু নতুন বিতর্ক!

অন্যদিকে, একই বিষয় নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন রূপা গাঙ্গুলী। দিল্লির আন্দোলন, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই বিষয় সম্পর্কে তিনি কোনও খবরই রাখেননি। রূপা গাঙ্গুলীর কথায়, “আমি আপনাদের কাছে করজোড়ে জানাচ্ছি, আমি এই বিষয় সম্বন্ধে এক লাইনও খবর রাখিনি, রাখতে চাইনি।” তিনি আরও বলেন, “যেমন আমি খেলা দেখি না, খেলার কিছু বুঝি না, ঠিক তেমনই এই বিষয়টাও আমি পড়িনি। তাই এই বিষয়ে বক্তব্য রাখার জন্য আমি একেবারেই অযোগ্য।” তাঁর মতে, কোনও বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য বা জ্ঞান না থাকলে শুধুমাত্র জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মন্তব্য করা উচিত নয়। তাই এই ইস্যুতে মত প্রকাশ করা থেকে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রেখেছেন। ফলে দেশের বহুল আলোচিত এই আন্দোলন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে রুদ্রনীল ঘোষ ও রূপা গাঙ্গুলীর মন্তব্যে উঠে এল দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি একদিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা এবং তদন্তের দাবি, অন্যদিকে তথ্য না জেনে মতামত না দেওয়ার অবস্থান।

You cannot copy content of this page