পর্দার ‘দ্রৌপদী’ বাস্তব জীবনেও কুরুক্ষে’ত্রের সাক্ষী! বাথরুমের মতো ঘর, নিত্যদিন স্বামীর অক’থ্য অ’ত্যাচারের শিকার হয়ে তিনবার আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা করেছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়! তারপর জড়ান নতুন সম্পর্কে, কপালের দোষে টেকেনি সেটাও! তবু আজও কেন সিঁথিতে সিঁদুর পরেন অভিনেত্রী? জানেন কে ছিলেন তাঁর স্বামী?

পর্দার হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকে বহু না-বলা গল্প। দর্শকরা সাধারণত তারকাদের সাফল্য, জনপ্রিয়তা আর গ্ল্যামারই দেখতে পান, কিন্তু তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম অনেক সময় সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। কেউ সংসার ভাঙার যন্ত্রণা বয়ে বেড়ান, কেউ মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই করেন, আবার কেউ নতুন করে জীবন শুরু করার সাহস দেখান। বহু জনপ্রিয় তারকার জীবনই প্রমাণ করে, আলো-ঝলমলে দুনিয়ার বাইরেও রয়েছে কঠিন বাস্তব। সেই কারণেই সময়ের সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা অধ্যায় আজও দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে।

এই তালিকায় অন্যতম নাম রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। টেলিভিশনের ইতিহাসে ‘মহাভারত’-এ দ্রৌপদীর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন। আজও বহু দর্শক তাঁকে দ্রৌপদী হিসেবেই মনে রাখেন। এরপর বাংলা ও হিন্দি সিনেমা, টেলিভিশন সব ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। তবে কেরিয়ারের এক পর্যায়ে অভিনয় থেকে দূরে সরে রাজনীতিতে যোগ দেন। বর্তমানে আবার অভিনয়ে ফিরেছেন এবং পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু তাঁর পেশাগত সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এমন এক ব্যক্তিগত জীবন, যা জানলে অনেকেই অবাক হতে পারেন।

১৯৯২ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ধ্রুব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে সংসারেই মন দিতে চেয়েছিলেন। সেই কারণেই মুম্বই ছেড়ে কলকাতায় ফিরে আসেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্নের সংসার বাস্তবে সুখের হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলতে থাকে বলে তিনি দাবি করেছিলেন। স্বামীর সঙ্গে নিত্যদিনের বিবাদ এবং মানসিক চাপ ধীরে ধীরে তাঁকে অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়। সেই কঠিন সময়ে তিনি একবার নয়, পরপর তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে বিচ্ছেদের পরও জীবনের লড়াই থেমে থাকেনি। একমাত্র ছেলে আকাশকে নিয়েও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিনেত্রীকে।

আরও পড়ুন: টলিপাড়ায় দুঃসংবাদ! সারা শরীরে ছড়িয়েছে মা’রাত্মক সংক্র’মণ, আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রাজেশ শর্মা! দ্রুত আরোগ্য প্রার্থনায় পরিবারের পাশাপাশি সহকর্মীরাও, কী হয়েছে অভিনেতার? বর্তমান কেমন আছেন তিনি?

ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ের পর রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনে আসেন সঙ্গীতশিল্পী দিব্যেন্দু মুখার্জী। বয়সে ১৩ বছরের ছোট দিব্যেন্দুর সঙ্গে দীর্ঘদিন লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন তিনি। যদিও সেই সম্পর্কও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। এরপর বেশ কিছু বছর অভিনয় থেকে বিরতি নেন রূপা। ২০১৫ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর টান কখনও কমেনি। কয়েক বছরের বিরতির পর ছোট পর্দায় ফিরে ‘মেয়েবেলা’ ধারাবাহিকে বীথির চরিত্রে অভিনয় করে আবারও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অভিনয় করে আবারও নিয়মিত কাজ করতে চান এবং ভবিষ্যতে অভিনয় ও রাজনীতি দুটিকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবন তাই শুধু একজন সফল অভিনেত্রীর গল্প নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনুপ্রেরণার কাহিনীও বটে। ব্যক্তিগত জীবনে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতি, মানসিক অবসাদ, সম্পর্কের ভাঙন এবং নানা বিতর্কের মুখোমুখি হয়েও তিনি নিজেকে থামতে দেননি। সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন এবং আবারও অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা প্রমাণ করে, জীবনে যত বাধাই আসুক না কেন, সাহস ও আত্মবিশ্বাস থাকলে নতুন করে শুরু করার সুযোগ সবসময়ই থাকে। আর সেই কারণেই রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবন আজও বহু মানুষের কাছে কৌতূহল, আলোচনার বিষয় এবং একই সঙ্গে অনুপ্রেরণার উৎস।

You cannot copy content of this page