‘২৯ আসে, ঊনত্রিশ যায়…’ তিন মাস পরও বিচার অধরা রাহুল অরুণোদয়ের! ‘মুখে বিরোধীর সুখ্যাতি’, কবিতায় ক্ষো’ভ উগরে কী লিখলেন জিতু কমল?

গত ২৯ মার্চ ওড়িশার দিঘা সংলগ্ন তালসারি সমুদ্রসৈকতে একটি ছবির শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দেখতে দেখতে সেই ঘটনার তিন মাস কেটে গেলেও এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। রাহুলের মৃত্যুর পর যাঁরা নিজেদের তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন নীরব বলে মনে করছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতেই সোমবার সকালে একটি কবিতা পোস্ট করে ফের বিষয়টিকে সামনে আনলেন অভিনেতা জিতু কমল। তাঁর লেখার প্রতিটি লাইনে উঠে এসেছে বিচার পাওয়ার অপেক্ষা, ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের সুর। একই সঙ্গে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখনও বহু মানুষ অপেক্ষা করে আছেন।

নিজের কবিতার শুরুতেই জিতু লেখেন, “২৯ আসে, ঊনত্রিশ যায়/ গৌতম-পুত্রের মৃত্যু তদন্ত, তদন্তেই থেকে যায়।” এই কয়েকটি লাইনের মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ঝুলে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। এরপর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও টেনে আনেন অভিনেতা। তিনি লেখেন, “মুখে বিরোধীর সুখ্যাতি/ দরকার ছিল কী ভাই/ জেতার আগের সেই কুখ্যাতি।” তাঁর এই লেখাকে ঘিরে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, কবিতার ভাষাতেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।

সরকার পরিবর্তনের পর টলিপাড়ায় নতুন উপদেষ্টা কমিটি গঠনের বিষয়টিও উঠে এসেছে জিতুর কবিতায়। নতুন এই ৯ সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। এই প্রসঙ্গ টেনে জিতু লেখেন, “কমিটি-কমেটিতে আজও চেনা মুখোশ ও মুখ/ অচেনা শুধু জেতানোর বোকা কতকগুলো মুখ।” তবে একইসঙ্গে নতুন সরকারের উপর নিজের আস্থার কথাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কবিতার শেষ অংশে লেখা, “এখনো করি তোমায় বিশ্বাস/ নতুন কণ্ঠ আর চোখ দিয়ে/ ভেঙে দিও না, সে আশ্বাস।”

এখানেই থেমে থাকেননি জিতু। তিনি আরও লেখেন, “প্রয়োজনে আবারও উঠবে/ বিপ্লবের সেই নির্ভীক গলা/ বরাভয় নাকি ভয় ভয় ভয়/ করি না গো তোমায়, এতটুকু ভয়/ আমি যে হালা, পুরোটাই অকুতোভয়।” এই লাইনগুলিকেও অনেকেই প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেই দেখছেন। উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখনও নজর রয়েছে অভিনেতার পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের।

আরও পড়ুনঃ দারুণ সুখবর! ইসলামপুরের আয়ুষ গুপ্তার মাথায় উঠল ‘সারেগামাপা ২০২৫’-এর সেরার মুকুট! পরিশ্রমের জয়, স্বপ্নের জয়! গর্বে ভাসছে গোটা উত্তরবঙ্গ!

প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, দীর্ঘ সময় জলের নিচে আটকে থাকার কারণে তাঁর ফুসফুস এবং খাদ্যনালিতে প্রচুর নোনা জল ও বালি ঢুকে যায়। সেই কারণেই শ্বাসরোধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, ঘটনার পর প্রযোজনা সংস্থার দেওয়া বিবৃতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রথমে সমুদ্রে নেমে শুটিং করার বিষয়টিই অস্বীকার করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়নি। তদন্তে উঠে আসা এই তথ্যগুলিকে ঘিরেই এখনও বহু প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে, আর সেই উত্তর জানার অপেক্ষাতেই রয়েছেন রাহুলের পরিবার, সহকর্মী এবং অসংখ্য অনুরাগী।

You cannot copy content of this page