“প্রধানমন্ত্রীর স্কিমগুলো ভারতীয়দের জন্য, রাষ্ট্রবাদী মানেই পিছিয়ে পড়াদের এগিয়ে আনা”, “কেউ সেই উন্নতি করেনি, অধীর রঞ্জন হোক বা সেই বাবা-ছেলে” “ধর্ম নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের উন্নয়নই বিজেপির লক্ষ্য!” অধীর রঞ্জন চৌধুরী সহ কাদের নিশানা করে বি*স্ফোরক কৌশিক রায়? দুর্নী’তিমুক্ত সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোন পরিবর্তনের বার্তা তাঁর?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের শাসনভার এখন বিজেপির হাতে। নতুন সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নয়নের মূলস্রোতে নিয়ে আসার বিষয়টি এখন রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর সেই প্রেক্ষিতেই বিজেপির শাসন, রাষ্ট্রবাদ এবং উন্নয়নের রাজনীতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা কৌশিক রায়।

বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ কৌশিক রায়। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। পর্দায় নিজের অভিনয় দক্ষতার জন্য যেমন পরিচিতি পেয়েছেন, তেমনই বর্তমানে রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন এই অভিনেতা। বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এবার দলের আদর্শ, উন্নয়নের পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।

কৌশিক রায়ের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী যে সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেন, সেগুলি কোনও বিশেষ ধর্মের মানুষের জন্য নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য। তাঁর মতে, রাষ্ট্রবাদী হওয়ার অর্থ শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কথা ভাবা নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের কথা ভাবা। দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং তাঁদের সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নের ব্যবস্থা করাই হওয়া উচিত প্রকৃত রাজনীতির লক্ষ্য। ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সমস্ত ভারতীয়ের উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে বলেই মত তাঁর।

এখানেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে নিশানা করেন কৌশিক। অধীর রঞ্জন চৌধুরী-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর অভিযোগ, এতদিন বিভিন্ন দল ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করলেও সাধারণ মানুষের সামাজিক উন্নয়নে তেমন কোনও কাজ করেনি। তাঁর দাবি, বহু মানুষ এখনও উন্নয়নের মূলস্রোতের বাইরে রয়েছেন। অথচ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বাস্তব পরিবর্তন আনার প্রয়োজন ছিল। শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কিংবা নেতাদের দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়াই রাজনীতির উদ্দেশ্য হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ “২০ বছর একসঙ্গে কাজ করেও আমাকে চিনতে পারেন না ওই নায়ক!” ‘রক্তবীজ’ ছবিতে আবিরের ডামি হয়ে ১২০ ফুট উঁচু টাওয়ারে টানা ৬ ঘণ্টা মৃ’ত্যুর সঙ্গে লড়াই! পর্দায় নায়কের বীরত্ব ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে নিজের জীবন বাজি রাখেন যাঁরা, বিপদের দিনে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ কি আদৌ থাকেন? প্রকাশ্যে স্টান্টম্যান চিত্ত কবিরাজের জীবনের কষ্টের অধ্যায়!

বিজেপির ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কৌশিক রায় আরও বলেন, বিজেপিতে তাঁরা শুধুমাত্র রাজনীতি করতে আসেননি, বরং সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনাই তাঁদের লক্ষ্য। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সুশাসনের যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছে, তা বাস্তবে করে দেখাতে চায় দল। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ধর্মীয় পরিচয়ের বদলে সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক সমতা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকেই বিজেপির রাজনীতির মূল জায়গায় তুলে ধরতে চাইছেন তিনি। এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।

You cannot copy content of this page