বাংলা ধারাবাহিক, রিয়েলিটি শো কিংবা সিনেমার জগতে শিশু শিল্পীদের জনপ্রিয়তা বরাবরই আলাদা। অনেক সময় তাঁদের স্বাভাবিক অভিনয়, সরল অভিব্যক্তি এবং অসাধারণ প্রতিভা দর্শকদের মনে এমন জায়গা করে নেয়, যা দীর্ঘদিন ধরে মনে থেকে যায়। শুধু অভিনয় নয়, বর্তমান সময়ে অনেক শিশু শিল্পী গান, নাচ, আবৃত্তি এবং খেলাধুলার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। অল্প বয়সেই জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন করে তারা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। এমনই এক প্রতিভাবান শিশু শিল্পী হলেন ধৃতিস্মান চক্রবর্তী, যিনি অভিনয় এবং গানের জগতে সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন। ধৃতিস্মান চক্রবর্তীকে বাংলা টেলিভিশনের দর্শকরা মূলত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিঠাই’-এর মাধ্যমে চিনেছেন।
তবে তাঁর পরিচয় শুধুমাত্র একজন শিশু অভিনেতা হিসেবে নয়। তিনি একজন বহুভাষী গায়ক হিসেবেও পরিচিত। অসমের তিনসুকিয়ার বাসিন্দা ধৃতিষ্মান খুব অল্প বয়স থেকেই গানের প্রতি অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। বাংলা, হিন্দি, অসমিয়া-সহ মোট চারটি ভাষায় গান গেয়ে তিনি প্রশংসা অর্জন করেছেন। মাত্র চার বছর বয়সেই তাঁর ঝুলিতে ছিল ৪৩টি মিউজিক ভিডিও কভার। তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার ২০২২ লাভ করেন। পাশাপাশি ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসও তাঁকে অভিনন্দন জানায়। অসমে গানের জগতে জনপ্রিয়তার কারণে অনেকেই তাঁকে ‘জুনিয়র জুবিন গর্গ’ নামেও চেনেন। গান, অভিনয় এবং অন্যান্য সৃজনশীল কাজে তাঁর সমান আগ্রহ তাঁকে অন্যান্য শিশু শিল্পীদের থেকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধৃতিস্মান এবং তাঁর অভিভাবক তাঁর জীবন ও কেরিয়ার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। সেখানে ধৃতিস্মানের মা-বাবা জানান, বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি গান, অভিনয় এবং খেলাধুলা নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে সে। গান এখনও তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নতুন কাজের প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা আরও জানান, ধৃতিস্মানের নামের আগে ‘মাস্টার’ শব্দটি ব্যবহার করার পিছনেও একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। গানের জন্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়ার সময় সরকারি নথিতে তাঁর নাম ‘মাস্টার ধৃতিস্মান চক্রবর্তী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর নামের আগে ‘মাস্টার’ ব্যবহার করা শুরু হয় এবং সেটিই এখন তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাৎকারে ধৃতিস্মানের অভিনয় জগতে আসার গল্পও উঠে আসে। তাঁর অভিভাবকদের কথায়, প্রথমে সে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’-তে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই অনুষ্ঠান থেকেই তাঁদের কাছে যোগাযোগ করা হয়। পরে ধৃতিস্মানকে একটি স্ক্রিপ্ট দেওয়া হয় এবং অভিনয় করে দেখাতে বলা হয়। কোনও বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়াই সে স্বাভাবিকভাবে অভিনয় করে সবার নজর কাড়ে এবং অডিশনেই নির্বাচিত হয়ে যায়। এরপরই তার হাতে আসে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিঠাই’-এ অভিনয়ের সুযোগ। সেই সময় পরিবারের কেউই জানতেন না যে ‘মিঠাই’ বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক। পরে ধারাবাহিকটির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে জানতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত হন। ধৃতিস্মানের পরিবার আরও জানিয়েছে, ‘মিঠাই’-এর পরিচালক রাজেন্দ্র পাল তাঁর অত্যন্ত প্রিয় পরিচালক এবং তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছে সে।
আরও পড়ুনঃ “বাংলা সিরিয়ালের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকার মতো বিয়ের সিকুয়েন্স…ঘেমে একসা, কিন্তু জান লড়িয়ে দিয়েছিলাম!” এত বছর পরেও ‘খড়কুটো’কে ভুলতে পারেননি দেবওম মজুমদার! গুনগুন-বাবিনের বিয়ের সেই আইকনিক দৃশ্যের শুটিংয়ের অজানা স্মৃতি ভাগ করলেন অভিনেতা! আপনার মনে কোন দৃশ্যটা সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছিল?
ধৃতিস্মানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন তাঁর অভিভাবকরা। তাঁরা জানান, কোনও নতুন চরিত্র বা কাজের প্রস্তাব এলে সিদ্ধান্ত কখনও তাঁরা নিজেরা চাপিয়ে দেন না। বরং ধৃতিস্মান যে চরিত্র করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে, সেই কাজই বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয় তাকে। সে নিজেও চেষ্টা করে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে, যাতে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। পরিবার আরও জানিয়েছে, ধৃতিস্মানের একটি বলিউড মিউজিক ভিডিওর কাজ সম্পন্ন হলেও গত দু’বছর ধরে সেটির শুটিং বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে সেই কাজ সম্পূর্ণ হলে দর্শকরা তাঁকে আরও বড় মঞ্চে দেখতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এত অল্প বয়সেই জাতীয় পুরস্কার, গানের জগতে সাফল্য এবং জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে ধৃতিস্মান চক্রবর্তী প্রমাণ করে দিয়েছেন যে প্রতিভা ও পরিশ্রম থাকলে বয়স কখনও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।






