সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁর হাসিমুখ, গান আর ভ্লগিং বহু মানুষের দৈনন্দিন বিনোদনের অংশ, সেই জনপ্রিয় গায়িকা দেবলীনা নন্দীকে ঘিরে এখন তোলপাড় বাংলা বিনোদন দুনিয়া। মেদিনীপুর থেকে শো করে ফেরার পরই ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্ম’হ’ত্যা*র চেষ্টা করেন তিনি। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবলীনা। গত বছরই পেশায় পাইলট প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন তিনি। নিউটাউনের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে সুখী দাম্পত্য, স্বামীর সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, সংসারের খুনসুটি—সবটাই নিয়মিত উঠে আসত তাঁর ভ্লগে।
এই ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। প্রথমে গায়িকার পাশে দাঁড়িয়ে সহানুভূতির বন্যা বইলেও, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। কেউ বলছেন মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছিলেন দেবলীনা, আবার কেউ দাবি করছেন গোটা বিষয়টি নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। লাইভে এসে সাংসারিক সমস্যার কথা বলার পর এমন চরম সিদ্ধান্ত—এই বিষয়টি নিয়েই এখন নেটদুনিয়ায় দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া।
এই পরিস্থিতিতে দেবলীনা নন্দীর ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন সমাজসেবিকা নন্দিনী ভট্টাচার্য। একটি সাম্প্রতিক ইন্টারভিউতে তিনি দাবি করেন, এই কেসে শুরু থেকেই নানা ধরনের গুজব ছড়িয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছিল দেবলীনা নাকি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান, কিন্তু পরে সোশ্যাল মিডিয়াতেই দেখা যাচ্ছে তাঁর ভাই ও দিদি রয়েছে। ফলে ঘটনার বর্ণনায় একাধিক অসামঞ্জস্য রয়েছে বলেই মত নন্দিনী ভট্টাচার্যের।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ঘুমের ওষুধের সংখ্যা নিয়ে। দেবলীনার পরিবার দাবি করেছে, তিনি ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খেয়েছেন। নন্দিনী ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ওষুধ দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। তাহলে একজন ব্যক্তি কীভাবে একসঙ্গে এতগুলি ওষুধ নিজের কাছে রাখতে পারেন? বারবার একই প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ কেনা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, ঘটনার ঠিক একদিন আগেই দেবলীনা স্বাভাবিকভাবে ভিডিও বানিয়েছেন—তাহলে একদিনের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “তুই কী সদ্য জন্মানো বাচ্চা, এত ন্যা’কা কেন?” “ইভেন্ট চলছিল না, বন্ধুর চিন্তা হলে নিজেই যেতিস!” দেবলীনাকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার আমন্ত্রণ নিয়ে সায়ক-অলকানন্দার বিতর্কে তুঙ্গে! প্রকাশ্যে বন্ধুত্বের নোং’রা চেহারা, পাল্টা জবাব সুকান্তর!
এছাড়াও হাসপাতালের আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন নন্দিনী ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে সামান্য দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও আগে পুলিশ ডায়েরি করা হয়, তারপর চিকিৎসা শুরু হয়। সেখানে এত বড় আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় কোনও পুলিশ কেস ছাড়াই কীভাবে চিকিৎসা শুরু হল, তা ভাবাচ্ছে। এই মুহূর্তে দেবলীনা নন্দীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, গোটা ঘটনা ঘিরে সত্য, গুজব আর প্রশ্নের জট ক্রমশ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।






