“শিল্পের ‘স’ জানে না, অথচ গুষ্টিমিলে টলিউডকে নিয়ন্ত্রণ করেছে!” “ইন্দ্রনীল ও ব্রাত্য বসু’র সঙ্গে অরূপ বা স্বরূপকে এক করবেন না!” অযোগ্যদের হাতে ছিল শিল্পের রাশ! এবার যোগ্যতা থাকলে তবেই মিলবে কাজ! সদর্পে ঘোষণা রুদ্রনীল ঘোষের!

টলিউডে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিল্পীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা, স্বজনপোষণের অবসান এবং শিল্প জগতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বার্তা দিয়েই সম্প্রতি আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেতা ও বিধায়ক ‘রুদ্রনীল ঘোষ’ (Rudranil Ghosh)। সাহিত্য সংস্কৃতি শিল্পী সংঘ এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর বেঙ্গল ফর লিটারেচার অ্যান্ড কালচারের শিল্পীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এখন থেকে কোনও দল, মত বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিল্পীরা কাজ পাবেন। সেই বৈঠকেই টলিপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা স্বজনপোষণ ও রাজনীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলার পরই তাঁকে আরও একটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন করা হয়, যা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে রুদ্রনীল ঘোষকে প্রশ্ন করা হয়, ইন্দ্রনীল সেন এবং ব্রাত্য বসুর নাম যেহেতু নারীদের সঙ্গে শ্লীল’তাহানি এবং আর্থিক দুর্নী’তির অভিযোগের মতো বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়েছে, সেই বিষয়টি তিনি কীভাবে দেখছেন। উত্তরে তিনি প্রথমেই বলেন, “দেখুন ইন্দ্রনীল সেন, ব্রাত্য বসুর সঙ্গে এক লাইনে অরূপ বিশ্বাসকে ফেলবেন না।” এরপরই তিনি স্পষ্ট করেন, “ইন্দ্রনীল সেন এবং ব্রাত্য বসু দুজনেই গুণী শিল্পী এটা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই তিনি শিল্পী পরিচয় এবং ব্যক্তিগত দায়িত্বের বিষয়টি আলাদা করে ব্যাখ্যা করেন।

রুদ্রনীলের বক্তব্য, একজন শিল্পীর প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও পরবর্তীকালে তিনি কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার মূল্যায়ন আলাদাভাবে হওয়া উচিত। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “তারা বিপথে পরিচালিত হয়ে অন্ধকারে যে রাস্তা বেছেছেন এটা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যদি অপরাধ করে থাকেন তো জেলে থাকবেন না বেলে থাকবেন সেটা আমার দেশের আইন ঠিক করবে!” অর্থাৎ অভিযোগ বা অপরাধের বিষয়টি প্রমাণিত হলে আইনের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তার বিচার হওয়া উচিত বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং শিল্পীসত্তাকে এক করে না দেখার কথাও তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: ‘ধর্ষ’ণ করলেই শুধু ধর্ষ’ক হয় না, দিনের পর দিন মেয়েদের এভাবে…বাবা হতে চলেছিস, যদি নিজেও মেয়ে হয়?’ প্রাক্তন মানেই কি চরিত্রহ’ননের লাইসেন্স? একের পর এক প্রাক্তনের উপর মানসিক নি’র্যাতন! গৌরব তপাদার বিতর্কে মুখ খুললেন ছোটবেলার বন্ধু, ফাঁস নেটপ্রভাবীর আসল রূপ!

এরপর অরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে আরও কড়া মন্তব্য করেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর কথায়, “কিন্তু অরূপ বিশ্বাসদের মতো লোক যারা কোনোদিন তাদের পরিবারের কেউ শিল্পে ‘স’তেও পা দেয়নি, তারাই নাকি গুষ্টিশুদ্ধ শিল্পকে নিয়ন্ত্রণের কাজে এগিয়ে এসেছিলেন! তফাৎটা একটু বুঝতে হবে এইখানেই।” তাঁর দাবি, শিল্পচর্চার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ শিল্প জগতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছেন। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। টলিউডে যোগ্য শিল্পীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রসঙ্গ টেনেও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

সবশেষে অভিযোগের গুরুত্ব এবং অপরাধের তারতম্য নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি বলেন, “অরূপ বিশ্বাসদের অপরাধ কম, কারণ তারা না জেনে অপরাধ করেছেন। তারা অজ্ঞ, অসচেতন শিল্প মাধ্যম সম্পর্কে। কিন্তু যারা জেনে অপরাধটা করেছেন তাদের ক্ষমা করা কঠিন!” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিল্প, রাজনীতি, ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং অভিযোগের গুরুত্ব নিয়ে রুদ্রনীলের এই বক্তব্য এখন বিভিন্ন মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page