গত কয়েকদিন ধরেই নেটপ্রভাবী ‘গৌরব তপাদার’কে (Gourab Tapadar) ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক চলছে। প্রথমে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়। এরপর প্রাক্তন অন্তরা দে ফেসবুক লাইভে এসে একাধিক অভিযোগ তোলেন এবং কিছু অডিও, চ্যাট ও স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। পরে গৌরব ও প্রিয়াঙ্কাও সাক্ষাৎকারে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। গৌরবের দাবি ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে অন্তরা একের পর এক পাল্টা দাবি করে বলেন, গৌরবের বহু বক্তব্য বাস্তবের সঙ্গে মেলে না এবং তাঁর কাছে তার প্রমাণও রয়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন গৌরবের স্কুলজীবনের বন্ধু পুনম পাল। দীর্ঘ একটি পোস্টে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একাধিক বি’স্ফোরক কিছু দাবি করেছেন।
পুনম জানান, সপ্তম শ্রেণি থেকেই গৌরবকে চেনেন তিনি। নবম ও দশম শ্রেণিতে তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। সেই সময় নিয়মিত গৌরবের বাড়িতে যাতায়াত ছিল তাঁর। গৌরবের বাবা, মা, দাদা সকলের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় ছিল। একইভাবে গৌরবও যেতেন তাঁদের বাড়িতে। তবে পুনম স্পষ্ট লিখেছেন, পুরনো বন্ধু বলেই সব বিষয়ে অন্ধ সমর্থন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। একাদশ শ্রেণিতে তাঁদের মধ্যে কিছু ব্যক্তিগত সমস্যাও হয়েছিল, যদিও পরে তা নিয়ে আর কোনও টানাপোড়েন ছিল না। এরপর কয়েক বছর পর গৌরব এক প্রাক্তন প্রেমিকাকে নিয়ে তাঁর কাছে আসেন, কারণ সেই তরুণীর বিউটি পার্লারের কিছু পরিষেবা প্রয়োজন ছিল। সেই সূত্রেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়। পুনমের দাবি, সেই তরুণী অন্তরা নন, বরং অন্য একজন, যিনি দীর্ঘদিন তাঁর বাড়িতে এসে নিজের সম্পর্কের নানান অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতেন।
পুনমের বক্তব্য, সেই সময় ওই তরুণীর কাছ থেকে গৌরব সম্পর্কে যা শুনেছিলেন, তাতে তিনি বিশেষ অবাক হননি। কারণ, বন্ধু হিসেবে গৌরবের স্বভাব সম্পর্কে তাঁর আগেই ধারণা ছিল। তিনি লিখেছেন, “বন্ধুরা কিন্তু বন্ধুকে খুব ভালো করেই চেনে।” তাঁর দাবি, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই তরুণীকেও তিনি বারবার বোঝাতেন, অতীত ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করতে। পরে ২০১৯ সালে বহু বছর পর আবার গৌরবের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। সেদিন গৌরব তাঁকে নিজের নতুন সঙ্গী অন্তরা দে-র সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পুনমের কথায়, বহু বছর পর পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলেও সেদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অন্তরার সঙ্গেই বেশি গল্প করেছিলেন তিনি। সেটাই ছিল অন্তরার সঙ্গে তাঁর প্রথম এবং শেষ সাক্ষাৎ।
এরপরই পুনমের পোস্ট আরও বি’স্ফোরক মোড় নেয়। তিনি দাবি করেন, গৌরবের একাধিক সম্পর্ক ভাঙার পর প্রতিবারই তিনি সংশ্লিষ্ট মেয়েদের চরিত্র নিয়ে কুরু’চিকর মন্তব্য করতেন। শুধু অন্তরা নয়, জুথিকা নামের এক তরুণীকেও নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য শুনেছেন বলে দাবি করেন পুনম। তাঁর প্রশ্ন, “একটার পর একটা সম্পর্ক ভাঙলেই যদি প্রতিটি মেয়েকেই একইভাবে অপমান করা হয়, তাহলে সত্যিই কি এতগুলো মেয়েই ভুল?” তিনি আরও লেখেন, “তোর চোখে মেয়েরা আসলে কী? সেটা একবার বল।” পুনমের মতে, রাগ বা অভিমান থাকতেই পারে, কিন্তু তাই বলে প্রতিবারই প্রাক্তনদের সম্মানহানি করার চেষ্টা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পোস্টে নিজের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন পুনম। তাঁর অভিযোগ, শুধু প্রাক্তন প্রেমিকাদের নয়, একসময় তাঁর সম্পর্কেও নাকি অন্যদের কাছে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন গৌরব। এমনকি দেবস্মিতা নামের এক তরুণীকেও নিয়ে নানান কুৎ’সা রটানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। পুনম লিখেছেন, “আজ যদি সেই পুরনো কথাগুলোর প্রমাণ আমার হাতে থাকত, তাহলে আমি অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নিতাম।” তাঁর বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে একই ধরনের আচরণ দেখতে দেখতে তিনি আর চুপ থাকতে পারেননি। তাই এতদিনের পরিচয়ের জায়গা থেকেই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুনম আরও দাবি করেন, মানুষ শুধু শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমেই কাউকে আঘাত করে না, কথার মাধ্যমেও একজনের সম্মান ও আত্মসম্মান নষ্ট করা যায়। তাঁর ভাষায়, “ধর্ষণ করলেই শুধু ধর্ষক হওয়া যায় না, দিনের পর দিন একজন মেয়ের সম্মান এভাবে ভেঙেও মানুষ তাকে মানসিকভাবে শেষ করে দিতে পারে।” যদিও এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গৌরব যদি সত্যিই নিজের কোনও ভুল না দেখে থাকেন, তাহলে সেটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। কারণ তাঁর মতে, বহু মানুষের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করে পরে সমস্ত দায় অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া কোনও সমাধান হতে পারে না।
আরও পড়ুনঃ তড়িঘড়ি ছুটলেন চিকিৎসকের কাছে, গুরুতর অসুস্থ অরিজিৎ সিং? শরীর আর আগের মতো সঙ্গ দিচ্ছে না? গায়কের শারী’রিক অবস্থা নিয়ে বাড়ছে উ’দ্বেগ, হঠাৎ কী এমন হলো? এখন কেমন আছেন তিনি?
সবশেষে পুরনো বন্ধুর উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দেন পুনম। তিনি লেখেন, মানুষের কাছে গৌরব আজ পরিচিত মুখ হলেও তাঁর কাছে তিনি এখনও সেই স্কুলজীবনের বন্ধু। তাই ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং একজন পুরনো বন্ধুর দায়িত্ব থেকেই এই কথাগুলো লিখেছেন। পোস্টের শেষে তিনি বলেন, “নিজের স্বভাবটা বদলাস।” পাশাপাশি আরও লেখেন, “আজ বাবা হতে চলেছিস, কাল যদি তোর ঘরেও একটা মেয়ে সন্তান জন্মায়, তখন মেয়েদের সম্মান করতে শিখিস।” তিনি আরও জানান, গৌরবের বর্তমান স্ত্রীকেও তিনি স্কুলজীবন থেকেই চেনেন। তাই সকলের ভালোর কথা ভেবেই তিনি এই দীর্ঘ পোস্ট করেছেন বলে দাবি করেন। তবে পুনমের এই সমস্ত বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত দাবি। এই অভিযোগগুলির বিষয়ে গৌরব তপাদারের পক্ষ থেকে আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।






